লোড হচ্ছে...
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই জেনেভায় আরেক দফা শান্তি আলোচনার জন্য বসতে যাচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জেনেভায় ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অনুষ্ঠেয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় দফার পরমাণু আলোচনায় তিনি "পরোক্ষভাবে" যুক্ত থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার আগে বৈঠকের জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যখন সুইজারল্যান্ডের ওই শহরে পৌঁছান, ঠিক তখনই সোমবার ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিশ্বনেতাদের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন। যেখানে রাজনীতিক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্মেলন বৈশ্বিক রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণকারী কিছু চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের সাক্ষী হয়েছে। ২০০৩ সালে ইরাক নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের প্রকাশ্যে বিবাদ, ২০০৭ সালে ভ্লাদিমির পুতিনের ভাষণ—যা কার্যত নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করেছিল, কিংবা ২০২৫ সালে জেডি ভ্যান্সের ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর কড়া আক্রমণ—প্রতিটি ঘটনাই সম্মেলনের পরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। এবারের সম্মেলনের উত্তেজনা থিতিয়ে আসার পর যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে, তা হলো:
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ ও আক্রমণাত্মক ভাষণ পশ্চিমা জোটের ফাটল মেরামতের পরিবর্তে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার ব্যবসায়ী মুঘল এবং বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া এই ভাষণে তিনি ইউরোপ, ন্যাটো এবং নিজের মিত্রদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে উত্তেজনার মধ্যেও ইউরোপীয় নেতাদের জন্য একটি স্বস্তির খবর ছিল। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে তিনি কোনো সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন না।
২২ জানুয়ারি, ২০২৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে গড়ে ওঠা বিশ্বব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি নাড়িয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই তিনি বিশ্বকে এক কঠোর বার্তা দিয়েছেন। গত বছর ওয়াশিংটনের তীব্র শীতের মধ্যে শপথ গ্রহণ শেষে ট্রাম্প বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, "আমাদের পথে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।" বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিস ডৌসেট তার এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি ও বিশ্বরাজনীতির ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেছেন।
২১ জানুয়ারি, ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন মিত্রদের ক্রমাগত হুমকি-ধমকি দেওয়ার পর এবার সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অপেক্ষা করছে এক জরুরি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ বা ‘ইন্টারভেনশন’। ইউরোপীয় শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সপ্তাহের বিশ্বনেতাদের সম্মেলনকে (ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম) কাজে লাগিয়ে একটি আসন্ন সংকট মোকাবিলার পরিকল্পনা করছেন। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের জিদ পুরো মহাদেশকে অস্থির করে তুলেছে এবং আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপের সাত দশকের পুরনো মৈত্রী এখন অস্তিত্বের সংকটে। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেই প্রেসিডেন্টের এমন আগ্রাসী বক্তব্যে গোপনে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজছেন।
২১ জানুয়ারি, ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে আবারও হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে ‘ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই’ এবং আমেরিকার জন্য ‘গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য’।
২১ জানুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মধ্যে স্থায়ী ফাটল ধরানো এবং পশ্চিমা প্রতিপক্ষদের দুর্বল করে দেওয়া ক্রেমলিনের দীর্ঘদিনের কৌশল। মস্কোর আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সোভিয়েত আমলের মর্যাদা ফিরে পাওয়ার পথে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাশিয়া সবসময়ই বড় বাধা হিসেবে দেখেছে।
২০ জানুয়ারি, ২০২৬
কেউ কি কখনো ঘুণাক্ষরে ভেবেছিল ইউরোপকে এক সময় আমেরিকার হুমকি মোকাবিলা করতে হবে? কিংবা একটি ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশকে আরেক সদস্য দেশ দখলের হুমকি দেবে এবং সম্ভাব্য অভিযান মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
২০ জানুয়ারি, ২০২৬
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবির বিরোধিতাকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি তার এই হুমকি বাস্তবায়নে "১০০ ভাগ" প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় অনড় অবস্থান নিয়েছে।
২০ জানুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ডেনমার্ক। সোমবার সন্ধ্যায় রয়্যাল ডেনিশ আর্মির প্রধান পিটার বয়েসেনের নেতৃত্বে সেনাদের একটি বড় দল পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের কাঙ্গারলুসসিয়াক-এ অবতরণ করে বলে জানিয়েছে ডেনমার্কের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ডিআর এবং অন্যান্য গণমাধ্যম।
২০ জানুয়ারি, ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড আর সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার মধ্যে মিল কেবল বরফ আর তাপমাত্রায়। তবে এই সপ্তাহে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) বিশ্বনেতা ও ব্যবসায়ীদের যে মিলনমেলা বসছে, সেখানে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াইয়ের বিষয়টি। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এই অস্বাভাবিক হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্মেলনের এই সময়টিকেই সচেতনভাবে বেছে নিয়েছেন।
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার (অধিগ্রহণ) অদ্ভুত প্রস্তাব এবং এর বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পশ্চিমা মিত্ররা যদি তার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে তাদের বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে বিরোধিতা করায় ইউরোপীয় আট মিত্র দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন । কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানান তিনি। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। খবরটি জানায় আল জাজিরার।
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

