বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়, বাংলাদেশ আবহাওয়া, বিডব্লিউওটি পূর্বাভাস, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ। সংগৃহীত

দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

Advertisement

বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা তৎসংলগ্ন দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার সংস্থাটি জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আগামী তিন থেকে চার দিন ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপটির কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সাগর ধীরে ধীরে উত্তাল হতে শুরু করেছে।

নৌকা ও ট্রলারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ

বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে আবহাওয়া দফতার থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সতর্ক সঙ্কেত জারি করা হয়নি। তবে খুব দ্রুত হুঁশিয়ারি সঙ্কেত জারি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সাথে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিস্টেমটি আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর শক্তি সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে মোড় নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে এটি সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করতে পারে। এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার লক্ষণ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।

বাংলাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা

বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাত হানা বা বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কোনো ঝুঁকি এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড়ে পূর্ণ রূপ নেয়ার পর এটি আগামী ২৮ অক্টোবরের দিকে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা তৎসংলগ্ন দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

তবে বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও এর দূরবর্তী প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সিস্টেমটি ভারতের উপকূল অতিক্রম করার সময় সেখানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সিস্টেমের পরোক্ষ প্রভাবে আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের ওপর বিস্তৃত ‘বৃষ্টি বলয়’ সক্রিয় হতে পারে। এর প্রভাবে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বেশির ভাগ এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ সময় বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টি হলেও এর পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে বলে জানিয়েছে বিডব্লিউওটি।