বায়ুদূষণ
জাতীয় প্রেস ক্লাবে ব্রিদ কোলিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। নয়া দিগন্ত

বায়ুদূষণ এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি বাংলাদেশে নীরব জনস্বাস্থ্য সঙ্কটে রূপ নিয়েছে। প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত রোগে দেশে এক লাখ দুই হাজার ৪৫৬ জনের মৃত্যু হচ্ছে। এ দূষণের কারণে বাংলাদেশীদের গড় আয়ু প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর কমছে। 

Advertisement

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেছেন, ‘বায়ুদূষণ একটি অদৃশ্য, সংক্রামক ও জীবনঘাতী সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ব্রিদ কোলিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে যুব ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতসহ ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির পরিচালক রায়হান নোমান নূরনবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মো: মাসুদ পারভেজ অভি, স্মার্ট এয়ার বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মো: আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

মূল বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘বায়ু ছাড়া আমরা এক মিনিটও বাঁচতে পারি না। অথচ সেই বায়ু নিয়ে গবেষণা খুবই কম। গবেষণা ছাড়া সঠিক নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়। তাই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ু গবেষণা সেল গঠন করতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সবার জন্য নিরাপদ ও পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৫ দফা দাবিতে ‘বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২’সহ বিদ্যমান সব নীতি ও কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একই সাথে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর যৌথ টাস্কফোর্স গঠন, বায়ুদূষণের অভিযোগ জানাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা হটলাইন চালু এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়।

দাবিনামায় ‘পলিউটার পেজ প্রিন্সিপল’ অনুযায়ী দূষণকারী শিল্প ও স্থাপনার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লাইসেন্স স্থগিতের কথা বলা হয়েছে। ঢাকা ও সব বিভাগীয় শহরে পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা ক্যাম্প স্থাপন ও কার্যকর রাখার দাবিও রয়েছে। 

জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে রিয়েল-টাইম এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) প্রদর্শন এবং দৈনিক বায়ুমান বুলেটিন প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়।

দাবিনামায় নির্মাণ এলাকায় ধুলা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা ও নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

খোলা জায়গায় বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধে কার্যকর নজরদারি, চরম দূষণের সময়ে জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি এবং ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য উপযুক্ত মাস্ক সরবরাহের পরামর্শও দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজেট ও সরঞ্জাম বৃদ্ধি, গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বছরব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারি নীতি প্রণয়ন ও মূল্যায়নে তরুণ গবেষক ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।