
পদকের আশায় বড় বহর নিয়ে জাপানে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১৬ দিনের লড়াই শেষে ফিরতে হচ্ছে মাত্র একটি ব্রোঞ্জ নিয়ে। বাংলাদেশের হয়ে পদক জিততে পেরেছেন শুধু উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তার। ফলে এশিয়ান গেমসের আরেকটি আসর শেষ হলো বাংলাদেশের জন্য হতাশার গল্প হয়েই।
রোববার (৪ অক্টোবর) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের। এবারের আসরেও যথারীতি শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে চীন। ১৬৯ সোনা, ৮৯ রুপা ও ৮৩ ব্রোঞ্জসহ ৩৪১ পদক নিয়ে টানা ১২তম আসরে দলগত সেরা তারা। স্বাগতিক জাপান ৮৩ সোনা, ৯৫ রুপা ও ৯১ ব্রোঞ্জসহ ২৬৯ পদক নিয়ে দ্বিতীয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অবস্থান সবচেয়ে ভালো। ২১ সোনা, ২৭ রুপা ও ৩৭ ব্রোঞ্জসহ ৮৫ পদক নিয়ে তারা আছে চতুর্থ স্থানে। শ্রীলঙ্কার ঝুলিতে একটি করে সোনা, রুপা ও ব্রোঞ্জ। পাকিস্তান জিতেছে দুটি রুপা ও আটটি ব্রোঞ্জ। নেপালের দুটি ব্রোঞ্জের বিপরীতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি একটি।
এবারের আসরে অংশ নিয়েছিল ৪৫টি দেশ ও একটি শরণার্থী দল। এর মাঝে পদক জিতেছে ৪০টি দেশ। বাংলাদেশ, ব্রুনেই, লাওস ও সিরিয়া একটি করে ব্রোঞ্জ জিতে যৌথভাবে ৩৭তম হয়েছে।
বাংলাদেশের একমাত্র পদকটি এসেছে উশু থেকে। নারীদের ৫২ কেজি বিভাগে জিন্নাত আক্তার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন প্রতিপক্ষের ওজনসংক্রান্ত কারণে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায়। এরপর সরাসরি সেমিফাইনালে খেলেন তিনি। সেখানে চীনের উ দির কাছে ৪–০ ব্যবধানে হারলেও তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রোঞ্জ।
জিন্নাতের এই পদক বাংলাদেশের জন্য আরো তাৎপর্যের। একক ইভেন্টে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সর্বশেষ পদক এসেছিল ১৯৮৬ সালে বক্সার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে। অর্থাৎ ৪০ বছর পর আবারো কোনো ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে পদক পেল বাংলাদেশ।
অতীতে ক্রিকেট থেকেই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় পদক এসেছিল, প্রথমবার সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া দুটি রুপা ও তিনটি ব্রোঞ্জও এসেছিল এই দলগত ইভেন্ট থেকে। এবারও প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিল ক্রিকেট।
কিন্তু নারী-পুরুষ দুই দলই হতাশ করেছে
নারী দল সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায়। অন্যদিকে পুরুষ দল সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছেও হেরে যায়।
ক্রিকেটের পাশাপাশি কাবাডি, আর্চারি ও শুটিংয়েও পদকের আশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কোনো ইভেন্ট থেকেই শেষ পর্যন্ত পদক মেলেনি। হকিতেও সাফল্য আসেনি; পুরুষ দল সপ্তম হয়ে অভিযান শেষ করেছে। নারী হকি দল এবারই প্রথম এশিয়ান গেমসে খেলেছে।
নারী ফুটবলেও হতাশ করেছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের সাথে গোলশূন্য ড্র করলেও উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০–০ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬–০ গোলে হারে দলটি। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০ গোলের হারটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়।
সব মিলিয়ে এবারও বড় কোনো অর্জন ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ১৮৭ ক্রীড়াবিদের বিশাল বহর, একাধিক খেলায় পদকের প্রত্যাশা—সবশেষে সান্ত্বনা হয়ে থাকল জিন্নাতের সেই এক ব্রোঞ্জ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








