২০১৮ সালের অভিজ্ঞতাই জামালের ভরসা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রথম বারের মতো আসিয়ান কাপ খেলতে গতরাতে ইন্দোনেশিয়া গেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তবে এটিই লাল-সবুজদের প্রথম এই দেশে যাওয়া নয়। আশির দশকে বিশ^কাপ বাছাই খেলতে সেখানে গিয়েছিল। ২০২২ সালেও জাকার্তায় ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালেও ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী গিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ অলিম্পিক দল। সেই এশিয়ান গেমসে আন্ডার ডগ থাকা জেমি ডে বাহিনী চমক দেখিয়েছিল। প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের সাথে ড্র করার পর হারিয়ে দেয় কাতারকে। এতে এশিয়ান  গেমস ফুটবলের নক আউটে উঠে লাল-সবুজরা। সেই ম্যাচে গোলটি করেছিলেন জামাল ভূঁইয়া। এবারো দলের সাথে আছেন তিনি। গতকাল দেশের মাঠে জাতীয় দলের শেষ অনুশীলনের সময় বাংলাদেশ অধিনায়ক জানান, ২০১৮ সালের মতো এবারো তেমন কিছু ঘটতে পারে।
 ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা তিন দলের বিপক্ষে আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম স্থানে আছে। মালয়েশিয়ার অবস্থান ১৩৬। আর সিঙ্গাপুর ১৪৮ এ। সেখানে বাংলাদেশ আছে ১৮১তে। জামাল জানান, ‘২০১৮ সালে কেউই বিশ^াস করেনি যে বাংলাদেশ দল নক আউটে যাবে। আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল কাতার, উজবেকিস্তান ও থাইল্যান্ডের মতো দল। কিন্তু আমরা ঠিকই নক আউটে গিয়েছি। আশা করি এবারো তেমনটা হবে।’
তবে বাস্তবতাও সামনে আনছেন এই মিডফিল্ডার। জানান, ‘অবশ্যই ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর শক্তিশালী দল। তারা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে। ম্যাচগুলো অবশ্যই কঠিন হবে। এরপরও আমরা সেখানে যাচ্ছি পরের রাউন্ডে উঠার জন্য। আমাদের কাছে সবার প্রত্যাশা কোয়ালিফাই করার। আমাদেরও লক্ষ্য সেই প্রত্যাশা পূরণ।’
 শেষ মুহূর্তে দল থেকে ইনজুরির জন্য বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। তার জায়গায় কোচ টমাস ডুলি দলে নিয়েছেন ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমনকে। এই ব্যাখ্যাও দিলেন কোচ। তার মতে, তপু আমাদের সাথে অনুশীলন করতে পারেনি। তার চোট আছে। সুস্থ হতে আরো দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তাই তাকে বাদ দিতে হয়েছে। তপুর গ্যাপ পূরণের জন্য তারিক কাজী, মঞ্জুরুর রহমান মানিক, সাদ উদ্দিন আছে। আছে জিদান ইউসুফও। আর তপুর জায়গায় শাহরিয়ার ইমনকে নেয়ার কারণ, আমার দলে দক্ষ ফরোয়ার্ডের অভাব। যথাযথ নাম্বার নাইন অর্থাৎ মূল স্ট্রাইকার নেই। তাই ফরোয়ার্ড লাইনে শক্তি বাড়াতেই ইমনকে নেয়া।’ কোচ আরো যোগ করেন, ‘এ ছাড়া ফরোয়ার্ড লাইনে রাকিব ও মোরসালিন আছে। এদের দিয়েই সাজানো হবে ফরোয়ার্ড লাইন।’ জাতীয় দল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন মন্তব্যেরও সমলোচনা করেন কোচ। তার মতে এদের অনেকেই ফুটবল বুঝে না।
 কোচ আবারো উল্লেখ করেন, আমরা এই আসরে যাচ্ছি সাফের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। মূল লক্ষ্য আমাদের সাফ ফুটবল। সেখানে মালদ্বীপ, ভুটান বা শ্রীলঙ্কার কাছে হারাটা হবে খুবই হতাশার। তাদের কাছে আমরা হারতে চাই না। আবার ইন্দোনেশিয়ার মাঠেও আমরা ভালো করতে চাই।’ এরপর ডুলি তথ্য দেন, ইন্দোনেশিয়া জাতীয় দলে জার্মান, ডাচ লিগে খেলা ৬/৭ জন খেলোয়াড় আছে। বাংলাদেশ দলে সেই মানের খেলোয়াড় বলতে হামজা চৌধুরী। এ ছাড়া শমিত শোমও আছেন। তা ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের খেলোয়াড়রা লিগ ম্যাচ খেলে নিজেদের তৈরি করেছে। সেখানে বাংলাদেশ দল সানমেরিনোর বিপক্ষে ম্যাচের পর আর কোনো ম্যাচ খেলেনি। লিগও মাত্র শুরু হয়েছে। 
বাংলাদেশ দল : শ্রাবণ, সুজন, মিতুল, শাকিল তপু, রহমত, হৃদয়, জামাল, মোরসালিন, হামজা, সুকি ইতোফুসা, রাকিব, শাহরিয়ার ইমন, জিদান ইউসুফ, তারিক কাজী, ফাহামিদুল, সোহেল রানা, মোহাম্মদ সোহেল রানা, জায়ান, মঞ্জুরুর মানিক, ফারহান আলী ওয়াহিদ, সাদ উদ্দিন, শমিত শোম ও মিনহাজুল করিম স্বাধীন।

Advertisement