মাদরাসার শিক্ষার্থীরা
মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। সংগৃহীত ছবি

ভারতের উত্তরাখণ্ডের মাদরাসাগুলোতে এখন থেকে সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে রোববার। এতদিন মুসলিম রীতি মেনে শুক্রবার মাদরাসায় ছুটি থাকত। শুক্রবার মুসলিমরা সম্মিলিত প্রার্থনা বা জুম্মার নামাজে অংশ নিয়ে থাকেন।

Advertisement

উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামির সরকার স্বীকৃত ২০৬টি মাদরাসায় নোটিশ দিয়ে বলেছে, শুক্রবারের ছুটি বাতিল করা হলো। এই ২০৬ মাদরাসার মধ্যে ১০৩টির বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে।‌

অর্থের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট জবাব না পাওয়ায় এবং সরকারি বিধিমালা অগ্রাহ্য করার অভিযোগে উত্তরাখন্ড সরকার অনেক মাদরাসা ভেঙে দিয়েছে। একইসাথে প্রায় ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসা নিয়ে একই নিয়ম চালু হতে পারে বিহারেও। ‌উত্তরাঞ্চলের কাটিহার, পূর্ণিয়া, আরারিয়া, মাধেপুরা, কিষানগঞ্জ এলাকায় তুলনামূলকভাবে সংখ্যালঘুদের বসবাস বেশি। জুম্মার নামাজের কারণে ওই এলাকায় অবস্থিত মাদরাসাগুলোতে রোববারের পরিবর্তে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। 

নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে বিজেপি বারবার শুক্রবারের ছুটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। এখন বিজেপি বিহারে সরকার পরিচালনা করছে। রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন বিহারের বিজেপি সরকার উত্তরাখণ্ডের মতো একই পথে হাঁটতে পারে।

উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘু শিক্ষা আইন, ২০২৫-এর অধীনে, শুধুমাত্র সেইসব বেসরকারি সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই পরিচালনার অনুমতি দেয়া হবে, যেগুলো সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলে। এই নিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জমির নিবন্ধন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একটি নির্দিষ্ট অনুপাত বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের জন্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং তহবিলের উৎস স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) উত্তরাখণ্ড সংখ্যালঘু শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সুরজিৎ সিং সাংবাদিকদের জানান, মাদরাসাগুলোকে শিক্ষা ব্যবস্থার মূলধারায় নিয়ে আসার জন্যই তিনি ছুটির দিন পরিবর্তনের আদেশ জারি করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে, শিক্ষা বিভাগ থেকে স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও কিছু মাদরাসা শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি পালন করছিল। আমরা এই প্রথা বন্ধ করতে এবং রোববার সাপ্তাহিক ছুটির নিয়মটি নিশ্চিত করতে শিক্ষা অধিদফতরকে চিঠি দিয়েছি।’

অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক কুনওয়ার সিং রাওয়াত বলেন, ‘মাদরাসাগুলো স্কুলের মর্যাদা পেয়েছে। তাই অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে বিধি, তাদেরও তা অনুসরণ করতে হবে।’

সূত্র : দ্য ওয়াল