
একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবেই তিনি এসে পড়েছিলেন রাজনীতির ময়দানে। ভারতীয় ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে গোটা দুনিয়া চিনত ঝোড়ো ব্যাটার হিসাবে। অসম্ভব সব টার্গেট হাসতে হাসতে তাড়া করেছেন ইউসুফ। ভারতীয় দলের জার্সিতে হোক বা কলকাতা নাইট রাইডার্স- বিধ্বংসী ব্যাটিংই ছিল তার পরিচয়। এবার রাজনীতির পিচেও সেই একই খেলা দেখাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের সংসদ সদস্য। মাত্র কয়েকমাসে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন জোড়া বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ইউসুফ। ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ২০২১ সালে। তার তিন বছর পর আচমকাই রাজনীতিতে পা রাখেন। শুরুতেই সরাসরি লোকসভা নির্বাচনের টিকিট, তাও বহরমপুরের মতো হেভিওয়েট কেন্দ্রে। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অধীর চৌধুরীর মতো দেশটির পোড়খাওয়া নেতা। কিন্তু ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে লোকসভা নির্বাচন জিতে যান ইউসুফ।
বছরদুয়েক পরে ফের ‘চমক’ ইউসুফের। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হওয়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএ জোটে শামিল হতে চান তৃণমূলের একঝাঁক সংসদ সদস্য। তাদের মধ্যে অন্যতম ইউসুফও। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি এনসিপিআইয়ে থেকে এনডিএ’তে যোগ দেবেন, তার সংসদ সদস্য পদ আদৌ থাকবে কিনা, সেসব নিয়ে প্রচুর সংশয় রয়েছে। কিন্তু এই ডামাডোলের মধ্যেও সুখবর পেলেন ইউসুফ।
জানা গেছে, প্রায় পাঁচ শ’ বর্গমিটার জমি সাবেক ক্রিকেটারকে উপহার দিতে চলেছে গুজরাট সরকার, যেখানে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি সরকার। ভদোদরায় পাঠান ভাইদের বাড়ির ঠিক পাশেই হাজার বর্গমিটারের একটি জমি রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ওই জমি কিনতে চেয়েছেন ইউসুফ, কিন্তু শুরু থেকেই আইনি জটিলতায় আটকে যান। কিছুতেই প্রশাসনের ছাড়পত্র মেলেনি গত ১৪ বছর ধরে। অবশেষে জট কাটছে। পছন্দের জমি হাতে পাবেন ইউসুফ।
সূত্র জানিয়েছে, গুজরাট সরকার ওই জমির অর্ধেকটা উপহার হিসেবে ইউসুফকে দেবে। বাকি অর্ধেকটা তাকে দাম দিয়ে কিনতে হবে। সবমিলিয়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে তারকা সংসদ সদস্যের। গুজরাটের যেসমস্ত ক্রীড়াবিদ আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, সেই ‘কোটা’তেই ইউসুফকে ৫০০ বর্গমিটার জমি দেবে রাজ্য সরকার। মজার ব্যাপার, বছরদুয়েক আগে এই ইউসুফকেই নোটিশ ধরিয়েছিল বিজেপিশাসিত ভদোদরা পৌরসভা।
তৃণমূলের টিকিটে সংসদ সদস্য হওয়ার পরই ইউসুফকে বেআইনি দখলের নোটিশ ধরানো হয়। হাই কোর্টে যান সাবেক ক্রিকেটার। সেখানে ভর্ৎসনার শিকার হয়ে নিঃশর্তভাবে মামলা প্রত্যাহারও করে নেন। তার কয়েকমাসের মধ্যেই জমির মালিকানা নিয়ে একেবারে আমূল পরিবর্তন।
বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, ইউসুফ কি তাহলে এনডিএ’র প্রতি ‘আনুগত্যের পুরস্কার’ পেলেন? যে গুজরাট সরকার এতদিন জমির লিজ দিতে চায়নি, তারাই আজ উপহার দিয়ে দিলো ইউসুফকে!
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








