ভারতের আন্দোলন, বাংলাদেশ, ভিন্নমত, শশী থারুর,কিরেন রিজিজু
শশী থারুর ও কিরেন রিজিজু। এনডিটিভি

ভারতে 'সরকার পরিবর্তন' বা 'রেজিম চেঞ্জ' সংক্রান্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের পানি গড়িয়েছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন। এর জবাবে কংগ্রেস সাংসদ ও সাবেক কূটনীতিক শশী থারুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা এবং ভারতকে অন্য কোনো দেশের সাথে মেলানো যুক্তিসংগত নয়।

Advertisement

এনডিটিভি সোমবার (১৯ অক্টোবর) জানায়, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' বা এসআইআর নিয়ে বিরোধী কংগ্রেস ও জেনইউর ২৯ বছর বয়সী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার তীব্র সমালোচনার পরই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত। নেহা বোরা অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধী দল ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালান।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক ভিডিওর একটি সংকলন প্রকাশ করেন, যেখানে নেহা বোরা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ বিরোধী জোটের বিভিন্ন নেতাকে 'সরকার পরিবর্তন' বা 'রেজিম চেঞ্জ' শব্দবন্ধটি ব্যবহার করতে শোনা যায়। রিজিজু লিখেন, 'এই মানুষদের দেখুন, যারা সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। মন দিয়ে শুনুন: ভারত বাংলাদেশ নয়।' তিনি আরো যোগ করেন, 'ভারতের তরুণরা বোকা নয়; তারা দেশ গড়ে তুলবে, ধ্বংস করবে না। প্রকৃত ভারতীয় তরুণরা মেডেল জিতছে, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিচ্ছে।'

রিজিজুর এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে আজ শশী থারুর বিষয়টিকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি ভারত বাংলাদেশ নয়, আবার ভারত ফ্রান্সও নয়। এই ধরণের তুলনা টানা অপ্রাসঙ্গিক।' ফ্রান্সের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, বাস বা পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দেয়ার মতো কোনো হিংসাত্মক আন্দোলন কংগ্রেস সমর্থন করে না। থারুর জোর দিয়ে বলেন, বিরোধীরা কেবল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বিশ্বাস করে।

থারুর আরো উল্লেখ করেন, 'রেজিম চেঞ্জ' বা সরকার পরিবর্তনের মতো একটি বাক্যাংশকে বিকৃত করার কোনো মানে হয় না। তারা মূলত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন। এসআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিয়ম করে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে, যা একটি সাংবিধানিক সৃঙ্কট তৈরি করেছে। তাই এটি সরকার উৎখাতের বিষয় নয়, বরং ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তাঁর দেশে মার্কিন চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদও অভিযোগ করেন যে, ওয়াশিংটন কোটি কোটি ডলার খরচ করে এই পরিবর্তন এনেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি নেতারা অভিযোগ তুলছেন, ভারতেও একই রকম ছক কষা হচ্ছে।

বর্তমানে দিল্লির রাজপথে কংগ্রেস, 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) ও বাম দলগুলো প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। অতীতে সিজেপির নেতৃত্বে নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আন্দোলনের জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।