কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পূজা আয়োজক কমিটির ১২ সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Advertisement

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চোরবাজার সর্বজনীন পূজামণ্ডপটি এ বছর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের স্বীকৃতি পাওয়া ‘সেরার সেরা’ তিনটি পূজামণ্ডপের একটি ছিল। সেখানেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ ওই পূজামণ্ডপে আশ্রয় নেন। বৃষ্টির কারণে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকায় সেখানে ঠেলাঠেলি ও চাপাচাপির পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে ঘটে পদদলনের ঘটনা। এতে অনেকে জ্ঞান হারান। তাদের হাসপাতালে নেয়া হলে ১৭ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সেখানে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকও উপস্থিত ছিলেন না।

ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ ঘটনার জন্য তিনি পূজা আয়োজক কমিটিকে দায়ী করেন। একই সাথে অন্যান্য পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূজামণ্ডপ কমিটির একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পদদলনের ঘটনার সূত্রপাত হয়। হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন ছাড়া বাকিদের অবস্থা ভালো।

নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ও ডি-গ্রেডের একটি সরকারি চাকরি এবং আহত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা, টাইমস অব ইন্ডিয়া।