আফগানিস্তান, নিঃশর্ত আলোচনা, পাকিস্তান
পাকিস্তান পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান। দ্য ডন

আফগানিস্তানের সাথে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই পাকিস্তানের। তবে সন্ত্রাসী হামলা বন্ধে কার্যকর ও যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কোনো আলোচনায় রাজি নয় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার এ অবস্থান জানিয়ে বলেছে, প্রতিবেশী দেশের সাথে বিরোধ মেটাতে বন্ধুরাষ্ট্রগুলো আন্তরিক উদ্যোগ নিলে স্বাগত জানাবে পাকিস্তান।

Advertisement

পাকিস্তানের সবচেয়ে পুরোনো ইংরেজি পত্রিকা দ্য ডন শনিবার (১৭ অক্টোবর) জানায়, সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, ‘আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসতে পাকিস্তান পিছপা নয়। আমাদের বৈধ নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর আন্তরিক উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাব।’

আফগানিস্তানের সাথে বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব আবারো দিয়েছে রাশিয়া। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে কিনা জানা নেই বলে উল্লেখ করেন সাজ্জাদ হায়দার খান। দুই পক্ষ অনুরোধ করলে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া একমাত্র দেশ রাশিয়া।

চলতি মাসের ৫ তারিখে মস্কো ফরম্যাটের বৈঠকে পাকিস্তান ও আফগান তালেবান প্রতিনিধিদের মতবিরোধের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা যায়নি। ‘আফগানিস্তানে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে আগের বছরের বিবৃতিতে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল, এবার তা মেনে নিতে রাজি হননি আফগান প্রতিনিধিরা’—বলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র।

পাকিস্তানের অভিযোগ, নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমান্তের ওপারে হামলা চালাচ্ছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ইসলামাবাদ। তবে আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। টিটিপির বিষয়ে তারা সুস্পষ্ট অবস্থানও নেয়নি।

গত বছর অক্টোবরে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও পরবর্তী আলোচনা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। সৌদি আরবও আলোচনা আয়োজন করেছে। এপ্রিলে চীনের উরুমকিতে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। কিন্তু আফগান ভূখণ্ডে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং সীমান্তপারের হামলা বন্ধের উপায় নিয়ে বিরোধ এখনো কাটেনি।

সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, ‘আলোচনা নিঃশর্ত হতে পারে না। আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের বিষয়টি পাকিস্তান বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তালেবান সরকার কখনো এক পা এগোয়, আবার এক পা পিছিয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের একটাই দাবি—আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য একটি যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা থাকতে হবে।’