দিল্লির এক বিক্ষোভের ছবি
দিল্লির এক বিক্ষোভের ছবি। সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রতিবাদ জানাতে গেলেও এবার গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের ভাড়া। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার সুযোগ বন্ধ হওয়ার পরে বিকল্প হিসেবে যে রামলীলা ময়দানকে বেছে নেয়া হয়েছে, সেখানেও মিলছে না সহজে জায়গা। এক দিনের জন্য পুরো মাঠ ভাড়া নিতে প্রাথমিক খরচ প্রায় এক লাখ ২১ হাজার রুপি।

Advertisement

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদ প্রতিদিন।

এদিকে, চলতি বছরের প্রায় সব দিনের বুকিং ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। ফাঁকা রয়েছে শুধু ডিসেম্বরের শেষ তিন দিন। এতে আন্দোলন করার জায়গা খুঁজতে গিয়ে নতুন সমস্যার মুখে পড়তে পারেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং প্রতিবাদী সংগঠনগুলো। 

বিক্ষোভের জন্য তিনটি বিকল্প
দিল্লির রাজপথে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের পরিচিত ঠিকানা ছিল যন্তর মন্তর। কিন্তু সম্প্রতি সেই জায়গাকে আর বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তার বদলে তিনটি বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান। 

দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা নির্দেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

এই তিনটি জায়গার মধ্যে যন্তর মন্তরের সবচেয়ে কাছে রয়েছে রামলীলা ময়দান। দুই জায়গার দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। অন্যদিকে, বুরারি ময়দান প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এবং সিবিডি ময়দান প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরে। ফলে রাজধানীর কেন্দ্রে প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে চাইলে রামলীলা ময়দানই তুলনামূলক সুবিধাজনক। কিন্তু সেখানে জমায়েত করতে গেলে আর্থিক প্রস্তুতিও রাখতে হবে আয়োজকদের।

এক দিনের খরচ
প্রায় ১২ একর জায়গাজুড়ে থাকা রামলীলা ময়দানে একসাথে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জমায়েত করতে পারেন। কিন্তু এই মাঠ ব্যবহার করার জন্য এক দিনেই ভাড়া দিতে হবে ৫০ হাজার রুপি। তার সাথে যুক্ত হবে নিরাপত্তার জামানত ও কর। সব মিলিয়ে প্রাথমিক খরচ দাঁড়াচ্ছে এক লাখ ২১ হাজার রুপি।

এর মধ্যে ৫৫ হাজার রুপি নিরাপত্তার জামানত হিসেবে জমা রাখতে হবে। নিয়ম মেনে মাঠ ব্যবহার করলে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার কথা। কিন্তু ভাড়া ও কর বাবদ খরচ হওয়া প্রায় ৬৬ হাজার রুপি ফেরত পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, এক দিনের কর্মসূচি আয়োজন করতেই আয়োজকদের উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ করতে হবে।

আগে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জন্য মাঠ ভাড়া করার খরচ ছিল না। পুলিশের অনুমতি পেলেই সেখানে কর্মসূচি করা যেত। নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগ আর থাকছে না। ফলে ছোট সংগঠন কিংবা সীমিত অর্থে আন্দোলন করা গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে প্রতিবাদের আয়োজন করা কঠিন হতে পারে।

টাকা দিলেই মিলবে না অনুমতি
রামলীলা ময়দান ভাড়া করার প্রক্রিয়াও বেশ কয়েক ধাপের। প্রথমে অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে অনাপত্তিপত্র। এরপরেই মাঠ ব্যবহারের জন্য বুকিং করা যাবে। 

তবে দিল্লি পুলিশ এখনো নতুন বিক্ষোভস্থলগুলোতে কর্মসূচি আয়োজনের পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলি প্রকাশ করেনি।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য রামলীলা ময়দানের প্রায় সব দিনের বুকিং হয়ে গেছে। ফাঁকা রয়েছে শুধু ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর। অর্থাৎ, টাকা খরচ করতে রাজি থাকলেও পছন্দের দিনে মাঠ পাওয়া কঠিন।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস