মাওলানা মুহাম্মদ ফজলুর রহিম মুজাদ্দিদি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড, ভারতের মুসলিম
মাওলানা মুহাম্মদ ফজলুর রহিম মুজাদ্দিদি। সংগৃহীত

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ ফজলুর রহিম মুজাদ্দিদি বলেছেন, আমরাও দেশ (ভারত)-কে ভালোবাসি। এর জন্য কোনো প্রমাণ দেয়ার প্রয়োজন নেই। দেশের প্রয়োজনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মনীষী শহীদ হয়েছেন। 

Advertisement

শনিবার (৩ অক্টোবর) কলকাতার পার্ক সার্কাসের একটি হোটেলে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড আয়োজিত ‘দেশ বাঁচাও, সংবিধান বাঁচাও’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার দিয়েছে আমাদের সংবিধান। কিন্তু সংবিধানের ধারা লঙ্ঘন করে সেই অধিকারে বারবার হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। 

মাওলানা মুজাদ্দিদি তার মৃতৃভূমি ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এখন দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। ওয়াকফ সম্পত্তি, মসজিদ, কবরস্থান, খানকাহ ও মাদরাসাগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে। মুসলিমদের দ্বীন ও ঈমান থেকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্ত হচ্ছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ানোর চেষ্টা চলছে, যা ইসলাম ধর্মে ‘শিরক’। 

তিনি আরো বলেন, এসআইআর, মব লিঞ্চিং এবং বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানোরও অপচেষ্টা চলছে। 

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিরাও তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন বলে মাওলানা মুজাদ্দিদি আক্ষেপ করেন। এই পরিস্থিতিতে সংবিধান, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষায় সমস্ত ন্যায়প্রিয় মানুষকে এক মঞ্চে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় ল’ বোর্ডের মুখপাত্র এস কিউ আর ইলিয়াস বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বৈষম্য ও একমুখী সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। 

তিনি বলেন, আমাদের দেশ বৈচিত্র্যময়, এখানে কোনো একটি সংস্কৃতি সব নাগরিকের ওপর চাপিয়ে দেয়া যায় না।

সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গের কনভেনার আবু তালিব রহমানি সংবিধান লঙ্ঘনের বিরোধিতা করে বলেন, সংবিধানকে অসম্মান করার বিরুদ্ধে সবাইকে আইন মেনে আন্দোলন গড়ে তুলাতে হবে। 

ল’ বোর্ডের সদস্য মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, একাধিক রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) চালুর ফলে স্বাধীনতার পর দেশ আজ সবচেয়ে জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। 

আসামের আহ্বায়ক হুসাইন আহমদ বড়ভূঁইঞা এবং ঝাড়খণ্ডের আহ্বায়ক রিয়াজ শরিফ সর্বভারতীয় স্তরে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ওপর জোর দেন। 

আমেদাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ তাহির হাকিম বলেন, ড. আম্বেদকরের তৈরি সংবিধান মানুষের স্বার্থে, এর অপব্যবহার রোখা আমাদের কর্তব্য। 

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের ‘আমিরে হালকা-৬’ মশিন্তা রহমান মানুষকে হয়রানি রুখতে শিয়া-সুন্নিসহ সমস্ত সংগঠনকে এক হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানান। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন ল’ বোর্ডের সদস্য মাওলানা ইসহাক মাদানি, শেখ হায়দার আলি, হাজী মাহামুদ আলম, আলমগীর সরদার, পীরজাদা ওজায়ের সিদ্দিকী, পীরজাদা সওবান সিদ্দিকী, রাফে সিদ্দিকী, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, সৈয়দ বাহাউদ্দিন, মাওলানা শরফুল আমীন, মুফতি আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাসেমি, সারোয়ার হাসান, সাজিদুর রহমান প্রমুখ। 

এ দিন পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সংগঠনকে মজবুত করতে মুহাম্মদ কামরুজ্জমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সাদাব মাসুম, পীরজাদা ওজায়ের সিদ্দিকী এবং মাওলানা আশরাফ হোসেন কাসেমি।