জামায়াত
জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার সভাপতি মসিহুর রহমান সংগৃহীত

শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো সরকারি আমলা, কর্মী, কলেজ বা মাদরাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার সভাপতি মসিহুর রহমান। সম্প্রতি রাজ্যের ২ শ’র বেশি মাদরাসা ও হাই মাদরাসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং একাধিক খারিজ মাদরাসার বিরুদ্ধে সতর্কতা জারির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইটিভি ভারত জানায়, সম্প্রতি তাদের দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মসিহুর রহমান দাবি করেছেন, সংখ্যালঘু আইএএস, আইপিএস বা কলেজের অধ্যক্ষ কিংবা মাদরাসার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেয়া আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার, আইনগত সমতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা-সহ একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মসিহুর রহমান।

তিনি ভারতীয় সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩০(১) অনুযায়ী, দেশের যে কোনো ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও তা স্বাধীনভাবে পরিচালনার মৌলিক অধিকার প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দায়িত্বপূর্ণ সরকারি পদে (আইএএস ও আইপিএস) নিয়োজিত সংখ্যালঘু আমলারা দেশের আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কাজ করেন। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্যবস্তু না করে, আইনি কাঠামোর মধ্যেই তাদের কাজের মূল্যায়ন করা উচিত।

সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার প্রশ্নে মসিহুর রহমান বলেন, আলিয়া, মাদরাসা কিংবা অন্যান্য রেজিস্ট্রার্ড বা সরকারি অনুদান-বহির্ভূত মাদরাসা এবং সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব প্রশাসনিক স্বাধীনতা রয়েছে। আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কেবল ধর্মীয় বিদ্বেষ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা যায় না।

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতির মতে, মাদরাসা ও সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষাও প্রদান করা হয়, যা চরিত্র গঠনে সহায়তা করে। এগুলো সমাজের মূলধারার পরিপন্থী—এমন ধারণা পোষণ করা সম্পূর্ণ ভুল।’ 

তিনি তার দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো পদক্ষেপ না-নিয়ে, বরং এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে আর্থিক অনুদান নিয়ে সরকার এগিয়ে আসে।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে রাজ্যের সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মসিহুর রহমান মনে করেন। ২০২৬ সালের মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তার সরকার প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং আইন-শৃঙ্খলার কঠোরতা বজায় রাখার নীতি বারবার স্পষ্ট করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মসিহুর রহমান বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে তুষ্টিকরণ নয়, বরং সকলের জন্য সম-অধিকার এবং কঠোর আইনি শাসনের মাধ্যমেই রাজ্যে শান্তি বজায় রাখা সম্ভব।’

এই ইস্যুতে সিপিআইএম নেতা রামচন্দ্র ডোম বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়া কিংবা বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ নতুন নয়। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল এই কাজটাই করে আসছিল। বিজেপি সেই নোংরামোটা বাড়িয়েছে। আগামীদিনে আরো জঘন্যতম পরিস্থিতির দিকে যেতে হতে পারে আমাদের। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতির জমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েই তৈরি করেছে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবে সেই জমিতে এবার বিভেদের রাজনীতির চাষ করবে বিজেপি ও আরএসএস।