
জন্মের পর অন্যসব শিশুদের চেয়ে একটু আলাদা ছিলেন আবদুর রহমান ফারিহ। মুখে কথা ফুটতে সময় লাগে দুই বছর। কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো—এর মাত্র এক বছরের মাথায় সম্পূর্ণ কোরআনে কারিম হিফজ সম্পন্ন করেন তিনি। মানে—নিজের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখনই হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন আবদুর রহমান।
আবদুর রহমান ফারিহ আলজেরিয়ার বাসিন্দা। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে তিনি এই কীর্তি গড়েন। তবে, তার এই বিরল কৃতিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আবারো ভাইরাল হয়েছে।
তখনকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, এমবিসি টেলিভিশন আবদুর রহমান ফারিহকে নিয়ে সর্বপ্রথম এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে চ্যানেলটি তাকে ‘বিস্ময়কর শিশু’ বলে অভিহিত করে।
এমবিসি টেলিভিশন জানায়, বয়স কম হলেও আবদুর রহমান অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কোরআন তেলাওয়াতের সঠিক পদ্ধতি আয়ত্ম করে ফেলে। তেলাওয়াতে শুরু থেকেই তার মদ-মাখরাজ ও তাজভিদ ছিল সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। পাশাপাশি ছিল সুরলিত কণ্ঠও।
আবদুর রহমান ফারিহ বেশি তেলাওয়াত করেন সুরা কাহফ। আর এর পেছনে রয়েছে আরো একটি বিস্ময়কর ঘটনার যোগসূত্র—গর্ভের সময়ে তার মা এই সুরাটিই বেশি তেলাওয়াত করতেন এবং এর মাধ্যমে অনুভব করতেন বিশেষ স্বস্তি ও প্রশান্তি।
তার বাবার মতে—পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মায়ের মুখে কোরআন তেলাওয়াত শুনেই হয়ত আবদুর রহমানও ছোট্ট বয়সেই হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে।
আবদুর রহমান ফারিহ যে, শুধু অনুকরণ করেই পবিত্র কোরআন হিফজ করেছেন, ব্যাপারটি মোটেও সেরকম নয়; বরং অল্প বয়স থেকেই তার মেধা ছিল আশ্চর্যজনক। তেলাওয়াত শুরু করতেন ‘আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ’ দিয়ে। কোরআন খতমের পর বিশেষ দোয়াও পাঠ করতেন। পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ে রাসূল সা:-এর নাম নিলেও তাঁর প্রতি দরূদ শরিফ পড়তেন।
আরো পড়ুন—তাহসিফ সাউরি নিহত : আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার জবাবদিহি দাবি
এমন সব অসাধারণ গুণের কারণে আলজেরিয়ায় আবদুর রহমানকে ‘ফারিসুল কোরআনিল কারিম’ বা ‘পবিত্র কোরআনের অশ্বারোহী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাকে সম্মান জানিয়ে আল-আকসা মসজিদের শায়খ মুহাম্মদ রাশাদ আশ-শরিফ তার গায়ে সোনালি রঙের একটি বিশেষ ‘আবাকাবা’ পরিয়ে দেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








