কাদিয়ানী
কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে চকবাজারে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন। নয়া দিগন্ত

রাজধানীর ঐতিহাসিক চকবাজার শাহী মসজিদ চত্বরে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের যাবতীয় প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

Advertisement

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর লালবাগ জোনের উদ্যোগে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
  
ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজির সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: হলেন শেষ নবী ও রাসূল। তার পর আর কোনো নবী আসবেন না—এটাই ইসলামের মূল আকীদা। কাদিয়ানী সম্প্রদায় শেষ নবীর নবুওয়তকে অস্বীকার করে বিশ্ব মুসলিমের ঈমান-আকীদায় আঘাত হানছে। বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে কাদিয়ানীদের আইনগতভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। ৯২ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশেও অবিলম্বে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের বিভ্রান্তিকর যাবতীয় প্রকাশনা অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করতে হবে।’

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘ইসরাইলে কাদিয়ানী মহাসম্মেলনে ইহুদিদের ঢলে তাদের আসল রূপ ও গভীর ষড়যন্ত্র বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হয়েছে। তারা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিসাধনে লিপ্ত। ঈমান-আকীদাকে রক্ষা করতে হলে কাদিয়ানীদের যাবতীয় অপতৎপরতা শক্ত হাতে রুখে দাঁড়াতে হবে। সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ তাওহীদী জনতার প্রাণের দাবি মেনে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা না করে, তবে আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের আয়াত ও সহীহ বুখারীর হাদীস দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত যে, নবুওয়তের ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি ঘটেছে। অথচ আব্দুল আউয়াল নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সে তথাকথিত ‘মসীহে মওউদ’ সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ইসলামী আকীদা অনুযায়ী হযরত ঈসা আ: যখন পুনরায় পৃথিবীতে আগমন করবেন, তখন তিনি কোনো নবী হিসেবে আসবেন না, বরং শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর উম্মত হিসেবে আসবেন। এই সত্য আকিদা সর্বস্তরের মুসলমানদের অনুধাবন করতে হবে।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, কাদিয়ানী সম্প্রদায় ‘আহমদীয়া মুসলিম জামাত’ পরিচয়, ‘মুবাশ্বিরা কোর্স’সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং নিজস্ব প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মুসলিম সমাজে তাদের মতবাদ উপস্থাপন করছে। খতমে নবুওয়ত ইসলামের মৌলিক আকিদা হওয়ায় তাদের ধর্মীয় দাবিগুলো সম্পর্কে মুসলমানদের সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষত ধর্মীয় পরিভাষা ও মুসলিম পরিচয়ের আড়ালে প্রচারণা চালানোর কারণে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই কাদিয়ানী মতবাদের মৌলিক বিশ্বাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়া, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা সম্পর্কে সতর্ক করা এবং খতমে নবুওয়তের আকিদা সংরক্ষণে শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও নিয়মতান্ত্রিক সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি বলেন, ‘চকবাজারের এই ঐতিহাসিক চত্বর থেকে আজ আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—খতমে নবুওয়তের আকীদা রক্ষা করা প্রতিটি সচেতন মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার সুনির্দিষ্ট আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই সংগ্রাম অবিরত চলবে।’

কেন্দ্রীয় সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমীর সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা শওকত হোসাইন সরকার, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, মুফতী খোবাইব আহমাদ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতী বশিরুল্লাহ, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতী কিফয়াতুল্লাহ আজহারী, মুফতী হারুন ইজহার, মুফতী মাসঊদুল করীম, মাওলানা শাব্বির আহমাদ কাসেমী, মাওলানা ইউনুস ঢালী, মুফতী মুহাম্মদ নোমান, মাওলানা এনামুল হক মুসা, শায়েখ আহমাদ বিন ইউসুফ  আল আজহারী, মুফতী আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতী সালাহ উদ্দিন, মাওলানা জুনায়েদ কাসেমী, মুফতী গাজী ইয়াকুব উসমানী, মাওলানা আলী আজম, মাওলানা আফসার মাহমুদসহ দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলগণ বক্তব্য দেন। বক্তারা তৌহিদী জনতাকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং খতমে নবুওয়তের আন্দোলনে শরিক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।