
ক্রীড়া প্রতিবেদক
গতকাল চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এলেন প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের তৌহিদ হৃদয়। সাবলীল ভঙ্গিতে দিলেন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর।
পঞ্চম দিনে টার্গেট চেজ করা নিয়ে তার উত্তর, ‘নির্ভর করবে কিভাবে আমরা শুরু করি। উইকেট এখনো ভালো আছে। গোল বলের খেলা। শুরু ভালো করলে মনে হয় তাড়া করা সম্ভব। কাল (আজ) কী হবে বলা যাচ্ছে না। আগে দেখতে হবে কত টার্গেট দেয়। এরপর প্ল্যান করব। এখনো ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি আছে। কাল (আজ) অবশ্যই ইম্পরট্যান্ট দিন। শুরু অনেক বেশি ইম্পরট্যান্ট। শুরু ভালো করতে পারলে ৩৫০ চেজেবল আমার কাছে মনে হয়।’
নিজের ইনিংস নিয়ে জানালেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। সমালোচনা তো থাকবেই, যেকোনো পেশায়। ভালো করলে আপনারাই আমাদের নিয়ে ইতিবাচক কথা বলেন। খারাপ করলেও আপনারাই বলবেন- এটাই স্বাভাবিক। সমালোচনা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, যদি ঠিক পথে চিন্তা করি। ডাবল করাটা রিজিকে ছিল। চিন্তা করিনি কাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি। আমার চিন্তা ছিল দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া। আমি সেট হয়েছিলাম, দিন ভালো ছিল, বল ব্যাটে লাগছিল।’
তাসকিন তাইজুলের সাথে জুটি করা নিয়ে জানালেন, ‘সেট ব্যাটার হিসেবে চেষ্টা করেছি, ওদের থেকে যতটুকু নেয়া যায়, দুইটা কথা দিয়ে হোক বা প্ল্যান দিয়ে হোক। যেভাবে তারা ব্যাট করেছে আউটস্ট্যান্ডিং ছিল। তাদের জন্যই দল এতদূর এসেছে। যেভাবে চাপ সামলেছে, অসাধারণ এফোর্ট ছিল দু’জনের কাছ থেকে। দু’জন আগে থেকেই ভালো ব্যাটিং করে। টেস্টে এমন হয় অনেক সময়- রানের চাপ থাকে না। তারা প্ল্যান অনুযায়ী ইউটিলাইজ করেছে।’
হৃদয় আরো বলেন, ‘প্রথমে ট্রাই করেছি ওই দু’জনকে কম স্ট্রাইক দিবো। শুধু ওদের জন্য না, বিশ্বের যেকোনো ব্যাটারের জন্য প্রথম কিছু বল মোকাবেলা কঠিন। আমি চাচ্ছিলাম ওরা যেন আমার বল দেখে। ওদের ডিফেন্স অনেক ভালো। যে কারণে অনেকক্ষণ উইকেটে সার্ভাইভ করেছে। দিনশেষে আমার পার্টনারকে বিশ্বাস করতে হবে, নাহলে আগাব কিভাবে। আমি আমার দিকে চিন্তা করিনি। টিম সিচুয়েশন কী ডিমান্ড করছিল- সেটিই ভেবেছি। অনেক খেলোয়াড় বাউন্ডারিতে ছিল। তখন চেষ্টা করেছি উপর দিয়ে মারার। ট্রাই করেছি এবং এক্সিকিউশন হয়েছে।’
মধ্যে একটু উপদেশও দিলেন হৃদয়, ‘এক-দুই দিনের পারফর্ম দেখে কাউকে জাজ করা ঠিক না। অবশ্যই সমালোচনা করবেন, যদি ভুল করি। অবশ্যই অধিকার আছে। তবে এক-দুই ইনিংসে না। একই ভুল যদি ধারাবাহিকভাবে হতে থাকে, তখন। খেলার সিচুয়েশন কী ডিমান্ড করছে, বুঝতে হবে অবশ্যই। কিছু সময় কাউন্টার অ্যাটাক ছাড়া বের হতে পারবেন না। তাই ডমিনেট করতে আমাদের কিছু না কিছু কাউন্টার অ্যাটাক করা উচিত।’
মুশফিককে ছাড়িয়ে যাওয়া নিয়ে বলেন, ‘সবাই অনেক খুশি আলহামদুলিল্লাহ। মুশফিক ভাইও অনেক খুশি হয়েছেন। শুধু আমি না, দলের যে কেউ পারফর্ম করলে উনি অনেক খুশি হয় এবং সাপোর্ট করেন। এই ইনিংস অবশ্যই ভালো লাগার ও আত্মবিশ্বাস দেয়ার মতো। স্পেশাল কোনটা বলতে চাচ্ছি না। আমাকে যদি বলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে তিনটি টানা সেঞ্চুরি বলব বেশি স্পেশাল।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








