
ক্রীড়া প্রতিবেদক
তিন দলের একেকটি গ্রুপ। ফলে একটি ম্যাচের জয়-পরাজয় গড়ে দেয় বিশাল পার্থক্য। এবারের সাফ ফুটবলের অন্যতম ফেবারিট দল পাকিস্তান। এখনো সাফের ফাইনালে খেলতে না পারা দলটি জুনে মালদ্বীপের ডায়মন্ড জুবিলি ফুটবলে শিরোপা জিতে এসেছিল। তবে ভারতের কাছে প্রথম ম্যাচে ২-৩ গোলে হারের পর ব্যাকশিটে চলে গিয়েছিল তারা। অবশ্য গতকাল মালদ্বীপের বিপক্ষে ৩-০তে জিতে দলটি শুধু ঘুরেই দাঁড়ায়নি, এই জয়ে নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনালও। তা গাণিতিক হিসাবে। পাকিস্তান গ্রুপের দুই ম্যাচ শেষ করে নামের পাশে জমা করেছে ৩ পয়েন্ট। গোল পার্থক্য +২। ভারতের পয়েন্ট ৩। গোল পার্থক্য +১। ভারতের একটি খেলা বাকি। আর তা মালদ্বীপের সাথে ১১ তারিখে। সেই ম্যাচে ফলাফল যাই হোক না কেন পাকিস্তানের সেমিতে খেলার পথে কোনো বাধাই থাকবে না। পাকিস্তান এর আগে এই ঢাকার মাঠে ২০১৮ সালে সাফের সেমিতে খেলেছিল। সে সাথে সাফে এই প্রথম মালদ্বীপকে হারাল পাকিস্তান। জুনে ডায়মন্ড জুবিলি টুর্নামেন্টেও মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল।
সেমিতে যেতে ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জিততেই হবে মালদ্বীপকে। তবে শুধু জিতলেই হবে না। জিততে হবে ৩-০ গোল। সে ক্ষেত্রে পয়েন্ট ৩ হলেও ভারতের গোলপার্থক্যে হবে-২। আর মালদ্বীপের ৩ পয়েন্টের সাথে গোল পার্থক্য হবে ০। তখন এই গোল পার্থক্যের সুবিধা নিয়ে মালদ্বীপ খেলবে সেমিতে। আর ভারতকে বিদায় নিতে হবে গ্রুপ পর্ব থেকেই। তবে ২-০তে জিতলে লাভ হবে না মালদ্বীপের। তখন হাজার দ্বীপের দেশটির ৩ পয়েন্টের সাথে গোল পার্থক্য হবে-১। আর ভারতেরও গোল পার্থক্য হবে-১। তখন বেশি গোল দেয়ার সুবাদে (ভারতের ৩ ,মালদ্বীপের ২) মালদ্বীপকে পেছনে ফেলে সেমিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে ভারত। পাকিস্তান নিরাপদ স্থানেই থেকে যাবে। আর ১১ তারিখের ম্যাচে ভারতের জয় বা ড্র দরকার সেমিতে যাওয়ার জন্য। কিংবা ০-১ বা ০-২ গোলের হারও কোনো সমস্যায় ফেলবে না তাদের। অর্থাৎ পাকিস্তান গতকাল জিতে নিজেরা সেমিতে গিয়ে বিপদে ফেলে দিয়েছে ভারত ও মালদ্বীপকে।
তবে মালদ্বীপ যে খেলা গতকাল উপহার দিয়েছে, তাতে তাদের পক্ষে ভারতের বিপক্ষে জেতা কঠিনই। তাদের হাঙ্গেরির কোচ ইটসভান বেলা উর্বানীও সে কথাই উল্লেখ করলেন। আর গতকালের হারের জন্য তিনি শুরুতে গোল মিস ও পরে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে তৃতীয় গোল হজমকে দায়ী করেন। তার মতে এই তৃতীয় গোলই আমাদের শেষ করে দিয়েছে। অথচ শুরুর দিকে দুই গোল মিস না করলে চিত্র অন্য রকম হতে পারত।
কাল জাতীয় স্টেডিয়ামে পেনাল্টি থেকে মালদ্বীপের বিপক্ষে পাকিস্তানকে গোল উৎসবে মাতান মিকেল অ্যারন আবদুল্লাহ। বক্সে ফাউলের কারণে পেনাল্টি পাওয়া। ম্যাচের ৯ মিনিট বয়সে জুনায়েদ আহমেদের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নাজিবউল্লাহ। ২৪ মিনিটে নাজিবুল্লাহ বক্সে ঢুকে প্লেসিং শটে দলকে ৩-০তে এগিয়ে নেন। এবারের আসরে এটি নাজিবুল্লাহ তৃতীয় গোল। ভারতের বিপক্ষেও গোল করেছিলেন পাকিস্তানের খান রিচার্জ ল্যাবরেটরিজের এই খেলোয়াড়।
বিরতির পর ৫২ মিনিটে আলী ফাসির পারেননি মালদ্বীপের পক্ষে ব্যবধান কমাতে। গোলরক্ষককে একা পেয়েও মেরেছেন বাইরে।
পাকিস্তানের পেরুর কোচ নলবের্টো আলবিনো সোলানো টোডকো ম্যাচ শেষে জানান, ‘ভারতের বিপক্ষে হারলেও আমরা ভালো খেলেছিলাম। ওই হারের পর আমাদের জয়ের বিকল্প ছিল না এই ম্যাচে। তবে প্রথমার্ধে তিন গোল দেয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরো গোল পাওয়া উচিত ছিল। এখন আমরা সেমির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








