
বিশেষ সংবাদদাতা
তথ্য-উপাত্তের সাথে কারসাজি করা মানে নিজের সাথে প্রতারণা করা। একটি সরকারের ব্যালান্স শিটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হচ্ছে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সে কারণে সরকারি নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে তথ্যের স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং জন-আস্থা নিশ্চিত করতে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা রাজনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ নিশ্চিত করতে চাই। অর্থনীতি যদি গণমুখী ও গণতান্ত্রিক না হয়, তাহলে রাজনৈতিক গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন অডিটোরিয়ামে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো: ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু বলেন, তথ্য-উপাত্ত গোপন রাখার বিষয় নয়, বরং সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অর্থনীতিকে গণমুখী ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে। তথ্যের সঠিকতা ও জনআস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা যাবে না। তিনি বলেন, উপাত্তের স্বচ্ছতা ও সততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য ছাড়া বৈষম্য দূর করা কিংবা সুনির্দিষ্ট গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ কারণে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিবিএসকে কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার পরিবর্তে ওপেন ডাটা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে ভুলত্রুটি সংশোধন করে প্রয়োজনীয় নীতি পরিবর্তন বা কোর্স কারেকশন করা সম্ভব হবে।
ফরেনসিক অডিটের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর উদ্দেশ্য অতীতের কোনো উদ্যোগকে আক্রমণ করা নয়। বরং সমস্যার গভীরে গিয়ে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করাই এর লক্ষ্য। বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিবিএসের কার্যক্রমের প্রশংসা করে আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচির সাথে বিবিএস যেভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বিবিএসের বিদ্যমান জনবল সঙ্কট নিরসনে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার আশ^াস দেন তিনি। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তথ্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আপনি পরিকল্পনা করতে যাবেন সেখানে যদি পরিসংখ্যান না পাওয়া যায় যেমন আমরা লক্ষ্য করেছি বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রে। এইখানে যার তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা তিনি তালিকাভুক্ত হননি। যিনি তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল না তিনি তালিকাভুক্ত হয়েছেন। সেই একেবারে বাস্তব থেকে আমরা পরিসংখ্যানকে তিনটি মূলত সংস্কারের দিকে যাচ্ছি। প্রথম হচ্ছে যে মান সম্পন্ন পরিসংখ্যান। অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে মান কী হবে পরিসংখ্যানের সেটা নির্দিষ্টকরণ করা আছে। তিনি বলেন, নৌশুমারি পতিত সরকারের সময় ছিল ১৩ হাজার ইঞ্জিনচালিত নৌকা। আসলে কিন্তু এটা দুই লাখ ৬৭ হাজার। তাহলে বোঝেন পার্থক্যটা কত বড়। তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের তথ্যকে আমরা সহজলভ্য করার পদক্ষেপ ইতোমধ্যে শুরু করেছি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, কোনো অবস্থাতেই তথ্যের বিকৃতি হতে দেয়া হবে না। সরকার জনগণের জন্য নির্ভরযোগ্য, নিরপেক্ষ ও সহজলভ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সঠিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই কার্যকর পরিকল্পনা, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








