
আবুল কালাম
কার্তিকের এই সময়ে এসে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে আবহাওয়া। হেমন্তকালের শুরুতে ঘাসের ডগায়, গাছের পাতায় জমছে শিশির বিন্দু। মধ্যরাতে বিরাজ করছে শুষ্ক আবহাওয়া। মনে হবে প্রকৃতি যেন নব রূপে নিজেকে মেলে ধরছে তিলোত্তমার বুকে। দিনে রোদ আর গরম থাকলেও শেষরাত ও ভোরে হালকা হিমেল হাওয়া ও কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা।
আবহাওয়া অফিস বলছে, ঢাকায় এখনো জাঁকিয়ে শীত পড়তে কিছুটা দেরি হতে পারে। এবার জানুয়ারি মাসে রাজধানীতে শীতের তীব্রতা বেশি থাকতে পারে। তবে এখন রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করেছে এবং শেষরাতে ও ভোরে হালকা ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে।
শীতের এই আগাম আভাস প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে নগরের বাজারেও। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা ধরনের শীতকালীন শাকসবজি। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ শীতের সবজির পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। অন্য দিকে পুরান ঢাকার বঙ্গবাজারসহ বিভিন্ন শপিংমল ও ফুটপাথে শীতের পোশাক কিনতে ভিড় করতে শুরু করেছেন ক্রেতারা।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।
নগর ছাড়া জেলাগুলোতে ভোরের কুয়াশা আর হালকা হিমেল হাওয়া শীত আগমনের বার্তা দিচ্ছে। উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সকালের দিকে হালকা কুয়াশা ও ঘাসের ডগায় জমছে বিন্দু বিন্দু শিশির। দিনের বেলা কিছুটা গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই অনুভূত হচ্ছে শিরশিরে ঠান্ডা।
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে চলনবিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন চা-বাগান এবং গ্রামাঞ্চলে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। শিম, টমেটো, ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মিলিয়ে হেমন্তের এই সময়ে উত্তর দিক থেকে আসা হালকা ঠান্ডা বাতাস শীতের এই আগাম আমেজ তৈরি করছে। সামনে তাপমাত্রা আরো কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও হালকা বৃষ্টির আভাস রয়েছে চলতি মাসে।
আবহাওয়াবিদরা জানান, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ঢাকায় শীতের অনুভূতি বাড়বে। অন্য দিকে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আসা হিমেল শীতল বাতাস বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তাই ডিসেম্বরের প্রথমে ঢাকায় শীতের অনুভূতি বাড়বে।
তাদের ভাষ্য, হিমালয়ের এই হিমেল শীতল বাতাস পশ্চিমাঞ্চল হয়ে দেশের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিকের বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি এতে করতে পারে দেশের বাতাসে কিছুটা ঠান্ডা অনুভব হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








