
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
দু’দিন চমক দেখিয়ে যথারীতি পতন ঘটল পুঁজিবাজার সূচকের। গত সপ্তাহের শেষ দুই কর্মদিবসে সূচকের বড় উন্নতির মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার বার্তা দিলেও গতকাল নতুন সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ফের পতন ঘটল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার সূচকের। বিনিয়োগকারীরা যখন নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করলেন তখনই আগের ধারায় ফিরে গেল বাজার আচরণ। লেনদেনের শুরু থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্ট বিক্রয়চাপ দিন শেষে সূচকের অবনতি ঘটায়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তিনটি সূচকের মধ্যে প্রধান দু’টি সূচকেরই অবনতি ঘটে গতকাল। এখানে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। পাঁচ হাজার ৪১৩ দশমিক ০৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিন শেষে স্থির হয় পাঁচ হাজার ৪০২ দশমিক ৬৮ পয়েন্টে। বিশেষায়িত দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচকটি হারিয়ে বসে ১০ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। একমাত্র ডিএসই শরিয়াহ সূচকটি ১ দশমিক ৫১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
তবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। এখানে সবগুলো সূচকই কমবেশি উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই গতকাল ১৫ দশমিক ৭২ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। ১৪ হাজার ৪৫৩ দশমিক ৪২ পয়েন্ট থেকে সকালে যাত্রা করা সূচকটি গতকাল লেনদেন শেষে ১৪ হাজার ৪৬৯ দশমিক ১৫ পয়েন্টে স্থির হয়। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ৭ দশমিক ৮৩ ও ৯ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট।
লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্ট বিক্রয়চাপ গতকাল বাজারের গতিকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করলেও হ্রাস পায় দুই পুঁজিবাজারের লেনদেন। ঢাকা শেয়ারবাজার গতকাল ৫৫৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ৮৭ কোটি টাকা কম। গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৬৪৫ কোটি টাকা। একইভাবে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে গতকাল লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি টাকার। আগের দিন বাজারটির লেনদেন ছিল ১৯ কোটি টাকা। ঢাকা স্টকে গতকাল লেনদেন শুরুর ১৫ মিনিটের মাথায় সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় ১৮ পয়েন্ট। এখান থেকেই শুরু হয় বিক্রয়চাপ। যেখানে এর আগে দু’দিন বাজারের সার্বিক আচরণ লেনদেনের শুরুতে সূচকের বড় ধরনের উন্নতি ঘটায় সেখানে গতকাল ১৫ মিনিটের মাথায় সৃষ্টি হওয়া বিক্রয়চাপ বিনিয়োগকারীদের আশাহত করে। প্রথম দিকের এ চাপ অব্যাহত ছিল বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত। এ সময় সূচকে নেতিবাচক প্রবণতা শুরু হয়। তবে চাপ সামলে নিতেও বেশি সময় লাগেনি। লেনদেনের এ পর্যায়ে ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে সূচক। দুপুর ১২টায় ডিএসইর প্রধান সূচকটির উন্নতি রেকর্ড করা হয় ১৯ পয়েন্ট। আবার বাজারের ঊর্ধ্বমুখী এ আচরণও বেশিক্ষণ টেকেনি। এখান থেকেই দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ শুরু হয় যা বজায় ছিল লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। এতে দিনশেষে পতন ঘটে সূচকটির।
এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা দিনের বাজার আচরণকে সংশোধন হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, গত সপ্তাহের শেষ দু’দিন দুই বাজারে সূচকের যে উন্নতি ঘটে তাতে মূল্যস্তরে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণেই গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপের মুখে ছিল বাজারগুলো। তারা আশাবাদী সংশোধন পরবর্তী সামনের দিনগুলোতে আবার স্বাভাবিক আচরণ করবে পুঁজিবাজার।
আগের দিনগুলোর মতো গতকালও ঢাকা বাজারে টেক্সটাইল খাতের কোম্পানির আধিপত্য অক্ষুণœ ছিল। লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধি দু’দিকেই প্রাধান্য ধরে রাখে খাতটি। তবে সিকিউরিটিজের সংখ্যাগত দিক থেকে দুই পুঁজিবাজারের সবচাইতে বড় খাত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সম্প্রতি এ খাতে যথেষ্ট মুনাফা তুলে নিতে সক্ষম হচ্ছেন। এর আগে দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপকভাবে দর হারায় খাতটি। ফলে খাতটিতে লোকসানও গুনতে হয়েছে অনেক বিনিয়োগকারীকে। এ সময় তারা হারানো লোকসানের একটি অংশ ফিরে পাচ্ছেন।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বেসরকারি কোম্পানি শাহজিবাজার পাওয়ার। ২৩ কোটি ৭১ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকায় ২৭ লাখ ৬৯ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে টেক্সটাইল খাতের এনভয় টেক্সটাইল ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। লেনদেনে ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সায়হাম টেক্সটাইলস, ইভিন্স টেক্সটাইলস, মতিন টেক্সটাইলস, প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ডরিন পাওয়ার, মালেক স্পিনিং মিলস, পুরবি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স।
মূল্যবৃদ্ধিতে গতকাল ডিএসইর শীর্ষ কোম্পানি ছিল টেক্সটাইল খাতেরই কোম্পানি মতিন স্পিনিং মিলস। কোম্পানিটির ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল ওষুধ কোম্পানি সিলভা ফার্মা। মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানি ও ফান্ডের অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সায়হাম টেক্সটাইলস, আলহাজ টেক্সটাইলস, হা-ওয়াল টেক্সটাইলস, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, রহিম টেক্সটাইলস, মাগুরাপ্লেক্স ও ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ।
দরপতনে গতকাল ডিএসইর শীর্ষে ছিল সাধারণ বীমা কোম্পানি বাংলাাদশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। কোম্পানিটি ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ দর হারায় গতকাল। ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ দর হারিয়ে তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল ইসলামী ব্যাংক। দরপতনের তালিকায় উল্লেখযোগ্য কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে আরো ছিল যথাক্রমে প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গোল্ডেন সন, পিপলস লিজিং, প্রিমিয়ার লিজিং, ফ্যামিলিটেক্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, এপেক্স স্পিনিং ও বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








