বৃষ্টিতে ভাসছে গাজা বাড়ছে মানবিক সঙ্কট

বিবিসি
গাজা উপত্যকায় ভারী বৃষ্টিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বসবাসের হাজার হাজার তাঁবু পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আশ্রয়হীন মানুষ। অনেক তাঁবুতে পানি ঢুকে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজার প্রায় সব মানুষেরই এখন জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।
ভারী বৃষ্টির পর বাসিন্দারা হাঁড়ি-পাতিল ও বিভিন্ন পাত্র দিয়ে তাঁবুর ভেতরে জমে থাকা পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ হাজার তাঁবু বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া জরাজীর্ণ দেয়াল ও ছাদ ধসে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফিলিস্তিনে জাতিসঙ্ঘের শিশু তহবিলের প্রতিনিধি জোনাথন ভেইচ মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে বিবিসিকে বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সহায়তা দিতে গেলেও রাস্তায় মানুষ তাদের থামিয়ে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টিতে প্রায় সবারই এখন সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু ইসরাইলের বিধিনিষেধের কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ও ইঞ্জিনের তেলের মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশ করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা হতে পারে-  এমন পণ্য গাজায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানিয়েছে দেশটি। অন্যদিকে জাতিসঙ্ঘের বাজেট কমে যাওয়ায় তাঁবু, ত্রিপল ও প্লাস্টিকের চাদরের সরবরাহও কমেছে।
গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ইসরাইলের সাথে হামাসের যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের অনেককে একাধিকবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশনের সঙ্কটের মধ্যেই এবার শুরু হয়েছে বৃষ্টির মৌসুম। দেইর আল-বালাহর বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী মরিয়ম ওদেহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, সন্তানদের কিভাবে নিরাপদে রাখবেন, তা বুঝতে পারছেন না। তার সন্তানেরা রাতে কোথায় ঘুমাবে জানতে চাইলেও কোনো উত্তর দিতে পারছেন না তিনি।
৪১ বছর বয়সী খালেদ আল-নাজ্জার বলেন, তাঁবুতে পানি ঢোকার পাশাপাশি তীব্র শীত ও বিভিন্ন রোগের বিস্তার নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তা ভেইচ সতর্ক করে বলেন, গত বছর শীতে গাজায় হাইপোথার্মিয়ায় মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। জরুরি ব্যবস্থা নেয়া না হলে এবারো একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে। গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ৫৮০ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ এসব পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

Advertisement