রিয়াদে আরামকো টাওয়ারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইয়েমেনে সৌদি অভিযানে নিহত ৩৩

আলজাজিরা ও রয়টার্স
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আর্থিক এলাকা কিং আবদুল্লাহ ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে (কেএএফডি) অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবন লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ও ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আরামকো টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। 
সংশ্লিষ্ট জ্বালানি কর্মকর্তা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে হাউছিদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, প্রতিহত করা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দু’টি সরাসরি রাজধানী রিয়াদ অভিমুখে এসেছিল। রিয়াদজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের পর সিভিল ডিফেন্স সতর্কবার্তা জারি করলেও পরবর্তীতে জানানো হয় যে তাৎক্ষণিক বিপদের আর সম্ভাবনা নেই।
অন্য দিকে হাউছিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, আরামকোর তেল স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর ও বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টাপাল্টি ছয়টি অভিযান চালানো হয়েছে। হাউছিদের দাবি, ২৪ ঘণ্টায় সানা ও আশপাশের সাতটি অঞ্চলে ১০৫টি হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট, যার ফলে সঙ্ঘাত শুরুর পর থেকে মোট হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩৬৯টিতে। একই সময়ে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ধারাবাহিক হামলায় নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম মোহাম্মদ কাসেম বাহাইবাহ জানিয়েছেন, সানা প্রদেশের বানি হুশাইশ জেলার আল-শারিয়াহ গ্রামে সৌদি বিমান হামলায় বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে প্রাথমিক হিসাবে ৩২ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতার সময়েও আবার হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-হাধারা বাজারে বিমান হামলায় আরো ৩০ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৯ জন ইয়েমেনি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সঙ্ঘাত তীব্রতর হওয়ার মূল কারণ সরকারি বাহিনীর পরিচালিত ‘ডন অব ইয়েমেন’ সামরিক অভিযান। জাতিসঙ্ঘের প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৬০০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘হাউছি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ছোড়া দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে আসার পথে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’  এ সময় সৌদি রাজধানীতে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
হাউছিদের প্রতিদিনের হামলার মুখে সৌদি আরব তার মিত্রদের সহায়তা চেয়ে আসছে। সম্প্রতি হাউছিরা রিয়াদ-সমর্থিত সরকারের কাছ থেকে লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। ইয়েমেনের একাধিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, হাজার হাজার সিরীয় সেনা সৌদি আরব ও ইয়েমেনে মোতায়েন হতে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন। জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে নতুন করে সঙ্ঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ।  আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব। তবে হাউছি কর্তৃপক্ষের এই হতাহতের দাবির বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। দীর্ঘ কয়েক বছর আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করার পর গত জুলাইয়ে হাউছি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে আবারো যুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্ঘাতে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর থেকে সৌদি আরব নিয়মিত হাউছিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। অন্য দিকে হাউছিরাও তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।

Advertisement