
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুনিয়া চাঁদপুর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিককে কক্ষে আটকে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে মাদরাসার জমি ও পুকুরের লিজের টাকা বকেয়া এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধ। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা আবদুল হামিদ ও নজরুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে। তবে তারা অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪৫ শতক বাগান ও কৃষিজমি এক বছরের জন্য ৪৬ হাজার টাকায় লিজ দেয়া হয়েছে। কাগজে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মমিনুল ইসলামের নামে লিজ থাকলেও জমিটি চাষাবাদ করছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হামিদ। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, লিজের ৪৬ হাজার টাকার মধ্যে ১৮ হাজার টাকা জমা হয়েছে। বাকি ২৮ হাজার টাকা এখনো বকেয়া। এ ছাড়া মাদরাসার ১০ শতক পুকুর ২১ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম। গত বছরের লিজের টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সুপারের সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। অন্য দিকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে আগ্রহী আবদুল হামিদকে বিএনপির পক্ষ থেকে এক নম্বরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণী পাস হওয়ায় সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়েও সুপারের সাথে তার বিরোধের সূত্রপাত বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজে আবদুল হামিদ, নজরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন ও শিক্ষক ইউসুফসহ কয়েকজনকে সুপারের দিকে তেড়ে যেতে এবং হাত উঁচিয়ে মারমুখী আচরণ করতে দেখা গেছে। সুপারের অভিযোগ, গণিত শিক্ষক ইকবাল হোসেন তাকে কক্ষে আটকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় উসকানি দেন। শিক্ষক মজিবুল হকসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে আবদুল হামিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার নামে প্রায় ৪৫ শতক জমি লিজ নেয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিকাইল হোসেন বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








