বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি তদন্তের সুপারিশ

 সংসদ প্রতিবেদক 

Advertisement

মাছ, গোশত, দুধ ও ডিমের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা এবং কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির অভিযোগ তদন্তের সুপারিশ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে সমন্বয় করে বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে সামুদ্রিক মৎস্য অনুসন্ধান ও আহরণ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মাছ রফতানি সম্প্রসারণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে কমিটি। 
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 
বৈঠকে কমিটির সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান  সালাউদ্দিন টুকু এমপি; শেখ মো: রেজাউল ইসলাম  এমপি; অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এমপি; এম এ হান্নান  এমপি; আলী আজম মো: আবু বকর এমপি এবং মো: আমির হামজা এমপি অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। 
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ, ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা, জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খামারিদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। 
বাজারে মাছ, গোশত, দুধ ও ডিমের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ছে কি না, সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম রয়েছে কি না এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা বা কৃত্রিম সঙ্কটের কারণে ভোক্তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। 
বৈঠকে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়। সামুদ্রিক মৎস্য অনুসন্ধান ও আহরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মাছের রফতানি বাড়াতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে পরবর্তী সময়ে কমিটির সামনে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। 
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদফতর ও সংস্থাগুলোর চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি পরবর্তী বৈঠকে তুলে ধরতে নির্দেশনা দেয়া হয়। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা এবং এসব প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।