
আত্মস্বীকৃত আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবী হিসেবে খ্যাত এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম দুই সহযোগী ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং আওয়ামী লীগের সরকারের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের নাম পাঠ্যবইয়ে বহাল রেখে প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতোমধ্যে এই বিতর্কের জেরে এনসিটিবির দক্ষ ও অভিজ্ঞ ১০ কর্মকর্তাকে বদলিও করা হয়েছে। অন্যদিকে পাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া ষষ্ঠ শ্রেণীর আইসিটি বইয়ের মধ্যে ৩৮ লাখ কপি বই ফেরত নিয়ে এসে সেখানে একটি পৃষ্ঠা পরিবর্তন করে পুনঃস্থাপনের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে প্রেস মালিকদের। বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড রকমের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেস মালিকরা। তাদের ভাষ্য হচ্ছে, যেখানে ষষ্ঠ শ্রেণীর আইসিটি বইয়ের ১৪ নং পৃষ্ঠায় পাঠ ১০-১১ : উপাত্ত ও তথ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে চিত্র ১:১৬ তে জ্ঞান পিরামিড এর ছবি দিয়ে শিক্ষার্থীদের চার স্তরের পিরামিড দেখিয়ে সচিত্র জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তাহলে কেন এই অহেতুক বিতর্ক সামনে নিয়ে আসা হয়েছে তাও বোধগম্য নয়।
ষষ্ঠ শ্রেণীর আইসিটি বইয়ের ১৪ নং পৃষ্ঠায় একটি পিরামিড চিত্রের উপরে অর্থাৎ চতুর্থস্তরে প্রজ্ঞা বুঝাতে সেখানে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এর নিচে অর্থাৎ তৃতীয় স্তরে জ্ঞানের বিষয়ে বুঝাতে সেখানে ব্রেনের ছবি দেয়া হয়েছে। এরপর পিরামিডের দ্বিতীয় এবং প্রথম স্তরে তথ্য বা ইনফরমেশন এবং ডাটা হিসেবে আলাদা দু’টি চিত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। আর এই ছবিগুলো দিয়ে বয়সে একেবারেই ছোট ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে এবং ছবির মাধ্যমে তাদেরকে বুদ্ধিভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যেই এই পিরামিডের সাথে প্রাসঙ্গিক তথ্যসমৃদ্ধ ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এখানে অহেতুক বিতর্ক তুলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই সময়মতো পৌঁছে দেয়ার পথেই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এই বইয়ের সংশোধিত ১৪ নং পৃষ্ঠায় ছবি বাদ দেয়া ছাড়া আর কোনো পরিবর্তনই আনা হয়নি। অথচ এটা খুব বেশি প্রয়োজন ছিল বলে কেউই মনে করছেন না।
সূত্র জানায়, বইয়ের এই ছবির বিষয়ে গত শনিবার বন্ধের দিনেই বিভিন্ন প্রেস মালিকদের মতিঝিলের এনসিটিবি কার্যালয়ে ডেকে এনে তাদেরকে ষষ্ঠ শ্রেণীর আইসিটি বইয়ের ১৪ নং পৃষ্ঠা বই থেকে সরিয়ে নিয়ে সেখানে নতুন একটি পৃষ্ঠা প্রিন্ট করে সেখান প্রতিস্থাপন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে এই কাজের জন্য কোনো প্রেস মালিককেই কোনো প্রকার আর্থিক সুবিধা (পরিবহন ও লেবার খরচ) দেয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে। আর এ নিয়ে অধিকাংশ প্রেস মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অনেকেই এই প্রতিবেদককে জানান, একটি মীমাংসিত বিষয় নিয়ে এনসিটিবি কেন এত বেশি মাতামাতি করছে তা বুঝতে পারছি না। একটি ছোট বিষয়কে নিয়ে এভাবে বিতর্ক না করে বরং একই বইয়ের ইনার পৃষ্ঠার আওয়ামী লীগের দোসর ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম দুই সহযোগী যারা আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবী হিসেবে আত্মস্বীকৃত তাদের নাম বাদ দেয়ার বিষয়ে কেউ কোনো টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করছেন না। অথচ শিক্ষার্থীদের প্রজ্ঞা বুঝাতে সেখানে দাঁড়িপাল্লা ছবি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। আর এই একটি সিলি ইস্যুকে কেন্দ্র করে পাঠ্যবই মুদ্রণের এই ভরা মৌসুমে চৌকশ এবং দক্ষ বেশ কিছু কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এটা অমানবিক ও অন্যায় হয়েছে। বদলি যেকোনো সময়েই করা যায় কিন্তু বই মুদ্রণের এই সময়টাতে এই বদলির মাধ্যমে এনসিটিবির ক্ষতি ছাড়া ভালো কিছুই হবে না।
এনসিটিবি সূত্র জানায় গত ২৪ অক্টোবরের এ বিষয়ে একটি পত্রের মাধ্যমে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণীর সরবরাহকৃত ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ পাঠ্যপুস্তকটিতে মুদ্রণজনিত ত্রুটি থাকায় তা আবার সংশোধন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে। একই সাথে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ পাঠ্যপুস্তকে মুদ্রণজনিত ভুল থাকায় মাঠপর্যায়ে সরবরাহকৃত বইগুলো সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অবশ্য এর একদিন পরেই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। এর আগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়। চিঠিতে দেশের সব জেলা এবং উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের এই তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহপূর্বক বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়।
ছবির বিতর্ক এবং মাঠপর্যায় থেকে বই ফেরত আনার বিষয়ে গতকাল সোমবার এনসিটিবির সদস্য (পাঠপুস্তক) অধ্যাপক আবু নাসের টুকু নয়া দিগন্তকে জানান, বইয়ের কোনো রকম ভুল থাকলে সেটা সংশোধন করে আবার পাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব প্রেস মালিকদের। এটা আমাদের চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। আমরা প্রেস মালিকদের সবাইকে বলে দিয়েছি যে বইগুলো ইতোমধ্যে জেলা উপজেলায় চলে গেছে সেগুলো ফেরত নিয়ে এসে ভুলের পৃষ্ঠাটি পুনঃমুদ্রণ করে বইয়ে সংযুক্ত করে আবার জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে। ভুলের কারণে এই ফেরত আনা বইয়ের সংখ্যা আনুমানিক ৩৮ লাখ হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








