
আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে পাঁচ কোটি ৭৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের একই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরের জানুয়ারি-আগস্টে উৎপাদন হয়েছিল চার কোটি ৯৫ লাখ কেজি। সে হিসাবে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বছর শেষে ১০ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের আশা করছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। এতে ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য মতে, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রথম আট মাসের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ চা উৎপাদিত হয়েছে। এ সময়ে উৎপাদিত চায়ের প্রায় অর্ধেক এসেছে মৌলভীবাজার জেলা থেকে।
চা উৎপাদন বৃদ্ধিতে অনুকূল আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের অন্যতম প্রধান চা উৎপাদন অঞ্চল শ্রীমঙ্গলে দুই হাজার ৬২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৯৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ বৃষ্টিপাত বেড়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ।
উৎপাদন বাড়লেও এবার নিলামে চায়ের দাম ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। চা বোর্ডের তথ্য মতে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৬টি নিলামে পাঁচ কোটি ১৯ লাখ কেজি চা বিক্রি হয়েছে। এর মোট মূল্য এক হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ২৮২ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নিলামে চা বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ এবং বিক্রির মোট মূল্য বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদন বাড়লে নিলামে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম নিলামমূল্য চা শিল্পকে সুরক্ষা দিচ্ছে। ২০২৪-২৫ নিলাম মৌসুমের প্রথম ২০টি নিলামে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়। ইতিবাচক ফল পাওয়ায় ২০২৫ সালের মে মাসে তা সারা দেশে কার্যকর করা হয়।
গত এক দশকে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও নিলামে কম দাম পাওয়ায় চা শিল্প আর্থিক সঙ্কটে পড়ে। এতে অনেক বাগান ঋণ পরিশোধ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়া এবং নতুন বিনিয়োগে সমস্যায় পড়ে। ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। চা বোর্ডের তথ্য মতে, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ নিলাম বছরের মধ্যে চায়ের বার্ষিক বিক্রির মূল্য প্রায় ৫৬২ কোটি টাকা বেড়েছে।
ফিনলে টি কোম্পানির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তাহসিন আহমেদ চৌধুরী গতকাল রোববার নয়া দিগন্তকে বলেন, এ বছর চা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে তার মনে হয় না। তবে ন্যূনতম নিলামমূল্য নির্ধারিত থাকায় চায়ের দাম বড় ধরনের কমে যাওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই মনে হয়।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি, অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, চা বোর্ডের তদারকি এবং বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের দিকনির্দেশনা উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বছর শেষে ১০ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশে নিবন্ধিত চা-বাগানের সংখ্যা ১৭২। এর বাইরে উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চলের দুই জেলায় ক্ষুদ্র চাষিরাও চা উৎপাদন করেন। ২০২৫ সালে দেশের মোট চায়ের ৪৭ শতাংশ এসেছিল মৌলভীবাজার থেকে। পঞ্চগড়ের নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলা থেকে উৎপাদিত হয়েছিল প্রায় ২১ শতাংশ চা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশে ১০ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








