
দেশে উৎপাদিত শাকসবজির ৩০ শতাংশেরও বেশি অংশে অতিরিক্ত মাত্রায় বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবার বালাইনাশকের ব্যবহার ও অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। একই সাথে গ্রামীণ নারীদের পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসায় যুক্ত করতেও দেয়া হচ্ছে সহায়তা। এ দুই উদ্যোগে বাংলাদেশ পাচ্ছে মোট চার লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান।
গতকাল রোববার ঢাকায় শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এফএওর মধ্যে দু’টি প্রকল্পের নথি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ সহায়তার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নথিতে স্বাক্ষর করেন। ইআরডি থেকে জানানো হয়েছে দু’টি উদ্যোগের মধ্যে নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হবে দুই লাখ মার্কিন ডলার। আর গ্রামীণ নারীদের নেতৃত্বে পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলার কর্মসূচিতে বরাদ্দ রয়েছে দুই লাখ ৪৭ হাজার ডলার।
বালাইনাশক ব্যবস্থাপনায় ২ লাখ ডলার: ইআরডি জানায়, ‘স্ট্রেংদেনিং ক্যাপাসিটিস ফর লাইফসাইকেল ম্যানেজমেন্ট অব পেস্টিসাইডস’ শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদ চার বছর। এফএও-চীন দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় নেয়া এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীনের কৃষি ও গ্রামীণবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ইথিওপিয়া, ঘানা, জর্দান ও কিরগিজস্তান এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। প্রকল্পটির আওতায় বালাইনাশকসংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ, ডিজিটাল নিবন্ধনব্যবস্থা চালু এবং নিয়মকানুনের প্রয়োগ জোরদারে সহায়তা দেয়া হবে। পাশাপাশি বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারের সক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষকদের নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহারে সচেতন করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রকল্প নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত শাকসবজির ৩০ শতাংশেরও বেশি অংশে অতিরিক্ত মাত্রায় বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়। ফলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বালাইনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গত ১০ জুন ইআরডিতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর এফএও প্রকল্পের নথি সংশোধন করে। সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকল্পের টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবে। বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। একই সাথে প্রকল্পের বাজেটও যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে।
নারীদের পরিবেশবান্ধব ব্যবসায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ডলার: গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে দ্বিতীয় উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে। ‘গ্রিন রুটস উইমেনস ফার্ম ল্যাবস’ নামের ২৪ মাসের এ উপ-কর্মসূচি বাংলাদেশ ও উগান্ডায় পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়িত হবে। এতে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার। এফএওর ‘ফার্মার ফিল্ড স্কুল’ বা কৃষক মাঠ বিদ্যালয় পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এ উদ্যোগে গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি সরবরাহ এবং অর্থায়ন ও বাজারের সাথে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা দেয়া হবে। এর লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণে নারীদের সক্ষমতা বাড়ানো। কর্মসূচিটির জাতীয় অংশীদার হিসেবে থাকছে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি বিপণন অধিদফতর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং সারা বাংলা কৃষক সোসাইটি। ‘আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬’-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।
কৃষি উন্নয়নে এফএওর ৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ: অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি বলেন, নিরাপদ কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ নারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করতে পেরে এফএও আনন্দিত।
ইআরডির জাতিসঙ্ঘ অনুবিভাগের উইং চিফ এ কে এম সোহেল এফএওকে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে এফএও ৫০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রকল্প দু’টি নিরাপদ খাদ্য, জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন। সুফল যাতে কৃষক ও গ্রামীণ নারীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে ইআরডি কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইআরডির জাতিসঙ্ঘ অনুবিভাগের উইং চিফ এ কে এম সোহেল। এ সময় একই অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








