রোগে মরছে মরিচগাছ কৃষকের মাথায় হাত

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
জামালপুরের মাদারগঞ্জে মরিচগাছে ফলন আসতে শুরু করার পরপরই অজ্ঞাত রোগে ডালপালা শুকিয়ে একের পর এক গাছ মরে যাচ্ছে। এতে চরম লোকসান ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কড়ইচড়া ইউনিয়নের বিনোদটঙ্গী এলাকার সাতজন কৃষকের প্রায় পাঁচ একর জমির মরিচক্ষেত এখন এই অজানা মড়কের কবলে। বিভিন্ন সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।
সরেজমিনে বিনোদটঙ্গী মাঠঘুরে দেখা যায়, বিঘার পর বিঘা জমিতে সবুজ মরিচ ঝুলছে। তবে সেই আনন্দের আড়ালেই লুকিয়ে আছে হাহাকার। অনেক গাছের পাতা ও ডালপালা নেতিয়ে শুকিয়ে গেছে, কোনোটি সম্পূর্ণ মরে গেছে। স্থানীয় কৃষক আনিছ জানান, বগি, পিউর ও প্রিমিয়াম জাতের মরিচ চাষ করেছিলেন তারা। ফলন ভালো দেখে বুকবাঁধা আশা ছিল, কিন্তু হঠাৎ রোগের প্রাদুর্ভাবে সব স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হলেও কৃষি বিভাগের তদারকির অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাষিরা। ৪৬ শতাংশ জমিতে চাষ করা কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। ওষুধেও কাজ দিচ্ছে না, আবার কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তাকেও খেতে পাননি তারা। কৃষক এনছ মণ্ডলের অভিযোগ, ফোনে জানানো সত্ত্বেও কর্মকর্তারা না এসে উল্টো কৃষকদেরই দোষারোপ করছেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মিয়া জানান, একাধিক এলাকা ও অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে তিনি ক্ষেত পরিদর্শন করতে পারেননি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সরেজমিনে যাওয়ার পরিবর্তে কৃষকদের অফিসে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও বৈজ্ঞানিক পরামর্শ না পেলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন মাদারগঞ্জের মরিচচাষিরা।

Advertisement