
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল খুলনার দাকোপ ও বাগেরহাটের মোংলা সফর করেছেন। তার এ সফরকে ঘিরে খুলনা-বাগেরহাট তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের আশা, মোংলা বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি, দণি-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলের সুপেয় পানির সঙ্কট নিরসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়গুলো আরো গুরুত্ব পাবে।
হেলিকপ্টারে দাকোপে নেমে নৌপথে মোংলায়
হেলিকপ্টারে করে সুন্দরবনের হিরণপয়েন্ট এবং সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন। সেখান থেকে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন।
এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেমাণ শত শত মানুষের সাথে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন এলাকার বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের এমপি ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।
দুপুরে মোংলার বানীশান্তা জেটি এলাকায় পৌঁছে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ওয়ার্করুমের সভাকে আয়োজিত সভায় যোগ দেন। এরপর মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন এবং বন্দরের কার্যক্রম ও অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। বিকেলে বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর মোংলা সফর উপলে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থায় ছিল পুলিশ, এসএসএফ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থান নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছায় এলজিইডি। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয় হেলিপ্যাড।
এ দিকে খুলনা জেলা বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের ৮ মাস পর প্রধানমন্ত্রীর এ সংক্ষিপ্ত সফর যুগান্তকারী। তার এ সফর শুধু খুলনা বা বাগেরহাটের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। দণি-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলের সুপেয় পানির সঙ্কট নিরসন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনয়নে এই সফর নতুন আশার আলো সঞ্চার করবে।
মোংলা বন্দরসহ উপকূলে উন্নয়নের প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা ও বাগেরহাট সফরকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় মোংলা বন্দর এলাকায়। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মোংলা বন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে প্রকম্পিত হয় আশপাশের পরিবেশ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মোংলা ও আশপাশের এলাকায় আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়। সংস্কার করা হয় ভাঙাচোরা সড়ক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় মোংলা বন্দরের জেটি, নৌযান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
এ সময় মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি মোংলা পৌর শাখার সভাপতি মো: জুলফিকার আলী এবং মোংলা উপজেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদারের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বন্দর এলাকায় জড়ো হন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের আশা, মোংলা বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো আরো গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাস্তবায়ন এবং উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন মোংলা বন্দর দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য এবং দণি-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন্দরের সমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শিল্পায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি আরো গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
সবমিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর খুলনা ও বাগেরহাট সফরকে ঘিরে মোংলা ও উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নয়ন নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উপকূলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে এ সফর কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে- এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








