
নিজস্ব প্রতিবেদক
মানুষের ধারণা পাল্টিয়ে প্রাথমিকে শিক্ষকতায় আগ্রহ বেড়েছে উচ্চ ডিগ্রিধারীদের। পরিসংখ্যান বলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষকদের আধিক্য দেখা যেত। তবে বর্তমানে সেই দৃশ্য বদলেছে। উচ্চশিক্ষিতদের আগ্রহ বেড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায়। প্রকৌশল, কৃষি, আইন, কম্পিউটার বিজ্ঞান থেকে শুরু করে এমফিল-পিএইচডিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা যুক্ত হয়েছেন প্রাথমিকের শিক্ষকতায়। এমনকি রয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিগ্রিধারী শিক্ষকও। সবমিলিয়ে ৩০ ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলছেন প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাস্টার্স ডিগ্রিধারী।
প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম বা আইপিইএমআইএসের ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবরের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আইপিইএমআইএস প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সাথে সংযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। এটি ইউনিসেফ এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত হয়।
আইপিইএমআইএসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা এক লাখ ৬৩ হাজার ৮০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৯ হাজার ৯৯১ জন স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারী। এইচএসসি পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪২ হাজার ৩০৪ জন এবং স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী রয়েছেন ২০ হাজার ৯৮৪ জন। এ ছাড়া বিএসএস ডিগ্রিধারী ১৩ হাজার ১১৯ জন, এসএসসি পাস ৮ হাজার ৫৭৯ জন এবং এমবিএ ডিগ্রিধারী ৭ হাজার ৭১০ জন শিক্ষক রয়েছেন।
এমফিল-পিএইচডি কিংবা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের শিক্ষকতা পেশায় আসার ফলে শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে। বিষয়টি আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সূত্র আরো জানায়, ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন ডিগ্রিধারীরাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তাদের মধ্যে কামিল ডিগ্রিধারী পাঁচ হাজার ৭৪০ জন, ফাজিল ডিগ্রিধারী এক হাজার ৯০১ জন, আলিম পাস এক হাজার ২৩৯ জন এবং দাখিল পাস শিক্ষক রয়েছেন ৪১২ জন।
প্রকৌশল, কৃষি, আইন ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের মতো বিশেষায়িত বিষয়ে ডিগ্রিধারী শিক্ষকও রয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী শিক্ষক এক হাজার ৬১৭ জন। বিএসসি ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ২৫৮ জন এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রিধারী ৪৯ জন। আইন বিষয়ে এলএলএম ডিগ্রিধারী ৩৮৬ জন ও এলএলবি ডিগ্রিধারী ৩১৫ জন। এমএড ডিগ্রিধারী ৩৬০ জন, বিএড (অনার্স) ডিগ্রিধারী ২৮৮ জন এবং বিএড ডিগ্রিধারী ২৫৬ জন শিক্ষক রয়েছেন।
এ ছাড়া ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা শিক্ষক ৪৩৮ জন, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমাধারী ১২৬ জন, ম্যাটস ডিগ্রিধারী ৪১ জন এবং বিপিএড ডিগ্রিধারী ২৮ জন। নার্সিং বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক রয়েছেন ২৩ জন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রিধারী ২১ জন ও এমএসসি ডিগ্রিধারী ১৭ জন, বিএজিইডি ডিগ্রিধারী ১০ জন এবং ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার টেকনোলজি ডিগ্রিধারী ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। অন্য দিকে এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রিধারী ৪২ জন এবং বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি) ডিগ্রিধারী শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন।
উচ্চশিক্ষিতরা আসার ফলে তাদের জীবনমানের উন্নয়নে কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ জানান ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের জীবনমানের উন্নয়নে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও ভবন
শিক্ষকদের যোগ্যতার বৈচিত্র্যের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার চিত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। তথ্য বলছে, দেশের মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯। এর মধ্যে ৬৪ হাজার ৩৭টি বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎসংযোগ রয়েছে। ইন্টারনেট সুবিধা আছে ৩৩ হাজার ৫৫৫টিতে। খেলার মাঠ রয়েছে ৫৫ হাজার ৬৯টি বিদ্যালয়ে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের পরিসংখ্যানে নতুন বা ভালো ভবনের পাশাপাশি মেরামতযোগ্য, পুরনো, জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ, পরিত্যক্ত ও অব্যবহারযোগ্য ভবনের তথ্যও রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভালো ভবনের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৮২৬। মেরামতযোগ্য ভবন রয়েছে ১৭ হাজার ৯৯২টি এবং ব্যবহারযোগ্য ভবন ১৬ হাজার ৬৭২টি। পুরনো ভবন রয়েছে ১৩ হাজার ৯৫০, জরাজীর্ণ ভবন রয়েছে ১১ হাজার ৬০টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সাত হাজার ৪৭৯টি। এ ছাড়া পরিত্যক্ত ভবন চার হাজার ৮১টি, ব্যবহারযোগ্য নয় এমন ভবনের সংখ্যা এক হাজার ৭৯৯টি এবং নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে ৭৬৫টি। ৪৬টি ভবনের অবস্থা অজানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








