সাইবার আইনের খসড়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের শঙ্কা
  •  গুজব ও ভুল তথ্য প্রচারে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড
  •  অস্পষ্ট সংজ্ঞা, কঠোর শাস্তি ও গ্রেফতারের বিধান নিয়ে উদ্বেগ
  •  আইনি স্পষ্টতা ও বিচারিক তদারকির প্রস্তাব

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধনী) আইন, ২০২৬-এর কয়েকটি বিধান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘মানহানি’, ‘অপমান’, ‘বুলিং’, ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্যের’ মতো বিষয়গুলোর অস্পষ্ট সংজ্ঞা, অনলাইন কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধে কঠোর কারাদণ্ডের প্রস্তাব মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর নট-ফর-প্রফিট ল (আইসিএনএল) বলছে, খসড়ার কয়েকটি বিধান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
অন্য দিকে প্রস্তাবিত সংশোধনীর বাস্তব প্রয়োগ, ডিজিটাল প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা এবং তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য তানভীর হাসান জোহা তার লিখিত প্রস্তাবে আইনটির বিভিন্ন ধারায় আরো স্পষ্টতা, কনটেন্ট অপসারণের ক্ষেত্রে বিচারিক তদারকি এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট বিধান রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, শুধু অপরাধের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ বা শাস্তি বাড়ানো নয়, নির্ভরযোগ্যভাবে অপরাধ শনাক্ত করা এবং আদালতে তা প্রমাণ করার সক্ষমতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
কনটেন্ট অপসারণে বিচারিক তদারকির প্রশ্ন
আইসিএনএলের পর্যালোচনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত আইনের ৮ ধারায় অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ, ওয়েবসাইট বন্ধ করা কিংবা তথ্যের প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিধান রয়েছে। দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত করা, জনশৃঙ্খলা বিঘিœত করা, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উসকে দেয়া, অপরাধের নির্দেশনা দেয়া কিংবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানির আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননাকর তথ্যও এ বিধানের আওতায় আসতে পারে।
আইসিএনএলের আশঙ্কা, এসব শর্তের কয়েকটি অস্পষ্ট ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যাযোগ্য হওয়ায় স্বাধীন বিচারিক কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমোদন ছাড়াই অনলাইন কনটেন্ট বা ওয়েবসাইট বন্ধ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিয়ে আলোচনা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ বিষয়ে তানভীর হাসান জোহা নয়া দিগন্তকে বলেন তিনি একটি লিখিত প্রস্তাব রেখেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, কোনো অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, আদেশের লিখিত কারণ উল্লেখ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারিক পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তার মতে, প্রমাণ সংরক্ষণ ও বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করা গেলে তদন্তের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
তবে কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, এই আইনটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকার ১৯ সদস্যের মিডিয়া জার্নালিস্ট কমিটির সাথে বৈঠক করবে। তাদের মতামত নিয়ে এটা মন্ত্রিসভার বৈঠকে যাবে। তারপর জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন হবে। ফলে খসড়ার বর্তমান বিধান ও আলোচনাধীন সম্ভাব্য পরিবর্তনকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মানহানি, অপমান ও বুলিংয়ের সংজ্ঞা নিয়ে আপত্তি
প্রস্তাবিত আইনের ২৫ ধারায় মানহানিকর, অপমানজনক বা বুলিং হিসেবে বিবেচিত বক্তব্য, অডিও ও ছবি প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। আইসিএনএলের মতে, এসব অপরাধের সংজ্ঞা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। ফলে বৈধ সমালোচনা, ব্যঙ্গ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কিংবা জনস্বার্থে প্রকাশিত তথ্যও আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
খসড়ায় ‘অপমান’ বলতে এমন আচরণ, বক্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কর্মকাণ্ড বোঝানো হয়েছে, যার ফলে কোনো ব্যক্তি অন্যের কাছে অপমানিত, তুচ্ছ, হীন বা অসম্মানিত বলে প্রতীয়মান হন কিংবা তার সামাজিক মর্যাদা বা সুনাম ক্ষুণœ হয়।
আইসিএনএলের মতে, এ সংজ্ঞা অত্যন্ত বিষয়নির্ভর। কোনো বক্তব্যে কাউকে অপমান করার অভিপ্রায় ছিল কি না, বক্তব্যটি সত্য কি না এবং সেটি জনস্বার্থে প্রকাশ করা হয়েছে কি না- এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনার সুযোগ না থাকলে আইনটির অপব্যবহার হতে পারে। কোনো ব্যক্তির অনিয়ম বা দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও তিনি অপমানিত হওয়ার অভিযোগ তুলতে পারেন।
‘বুলিং’-এর সংজ্ঞা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি। খসড়ায় ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে বারবার এমন আচরণ করাকে বুলিং হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি, ভয়ভীতি কিংবা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। আইসিএনএলের আশঙ্কা, সংজ্ঞাটি ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করা হলে রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি কিংবা কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য সমালোচনাকেও বুলিং হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সংস্থাটি বক্তব্যের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, সত্যতা, সম্ভাব্য ক্ষতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নেয়ার সুপারিশ করেছে। মানহানির অভিযোগে কারাদণ্ডের পরিবর্তে দেওয়ানি প্রতিকার, সংশোধনী প্রকাশ বা ক্ষতিপূরণের মতো কম কঠোর ব্যবস্থাও বিবেচনার কথা বলেছে তারা।
আইসিএনএলের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, প্রচলিত দণ্ডবিধিতে মানহানির সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড হলেও প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অনলাইনে মানহানির অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বা শিশু হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই ধরনের অপরাধে মাধ্যমভেদে শাস্তির এত বড় পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।
গুজব ও ভুল তথ্য প্রচারে ১০ বছরের কারাদণ্ড
প্রস্তাবিত আইনের ২৬(ক) ধারায় সাইবার পরিসরে গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানোকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
খসড়ায় গুজব বলতে এমন অসমর্থিত বা যাচাই না করা তথ্য, সংবাদ কিংবা দাবিকে বোঝানো হয়েছে, যা জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে কিংবা করার আশঙ্কা থাকে। অন্য দিকে ভুল তথ্য বলতে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা কোনো ব্যক্তি, জনগোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত, প্রতারিত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি বা প্রচার করা হয়।
আইসিএনএলের মতে, এ সংজ্ঞাগুলো যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট নয়। সদ্য ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার প্রাথমিক সংবাদ, আসন্ন বিক্ষোভের তথ্য কিংবা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতার বিবরণও যাচাই না হওয়ার কারণে গুজব হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একইভাবে কোনো তথ্য কিভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর নির্ধারণ করা হবে এবং ক্ষতির সীমা কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।
সংস্থাটির আশঙ্কা, এ ধরনের বিধান সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে। এর ফলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে আইসিএনএল প্রস্তাবিত আইনের ২৫(১) ও ২৬(ক) ধারা বাদ দেয়ার সুপারিশ করেছে।
পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার ও প্রতিষ্ঠানের দায়
প্রস্তাবিত আইনের ৪৬ ধারায় ২৫ ধারার অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে। ফলে এসব অভিযোগে বিচারিক কর্তৃপক্ষের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আইসিএনএলের মতে, মানহানি, অপমান ও বুলিংয়ের সংজ্ঞা অস্পষ্ট থাকায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা অনলাইনে প্রকাশিত বক্তব্যকে এসব অপরাধের আওতাভুক্ত মনে করলে গ্রেফতারের উদ্যোগ নিতে পারেন। এতে আইনটির অপব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। সংস্থাটি বক্তব্যসংক্রান্ত অপরাধে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচারিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা এবং এসব অপরাধকে জামিনযোগ্য করার সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাবিত আইনের ২৯ ধারায় কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট মালিক, প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধির ওপর দায় আরোপের বিধান রয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে অপরাধটি তার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে অথবা তা প্রতিরোধে তিনি যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন।
আইসিএনএলের আশঙ্কা, এ বিধান সংবাদমাধ্যম, নাগরিক সমাজের সংগঠন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অযৌক্তিক আইনি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এ ছাড়া ২৯(৩) ধারায় কোম্পানি বা সংগঠনের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাবও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে জোহা তার লিখিত প্রস্তাবে বলেছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে সাইবার অপরাধ সংঘটিত হলেই পরিচালক, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা বা প্রশাসককে শুধু পদবির কারণে দায়ী করা উচিত নয়। অপরাধে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা, জ্ঞান, সম্মতি কিংবা প্রমাণিত অবহেলার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
ডিজিটাল প্রমাণ ও তদন্তের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব
জোহা তার লিখিত প্রস্তাবে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গ্রাহক-সংক্রান্ত তথ্য, ট্রাফিক ডাটা এবং যোগাযোগের মূল কনটেন্টের জন্য পৃথক আইনি শর্ত নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন। তার মতে, তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ এবং সেই তথ্য প্রকাশের অনুমতি এক বিষয় নয়। বিদেশী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আইনসম্মতভাবে তথ্য সংগ্রহ, জরুরি ভিত্তিতে তথ্য সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার ব্যবস্থাও আরো স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
ডিজিটাল ফরেনসিকের ক্ষেত্রে প্রমাণের ধারাবাহিক হেফাজত, হ্যাশ যাচাই, প্রমাণের অখণ্ডতা এবং মেটাডেটা সংরক্ষণের মতো বিষয়েও ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জটিল ডিজিটাল প্রমাণনির্ভর মামলার বিচার, মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার এবং বৈধ সাইবার নিরাপত্তা গবেষণার সুরক্ষায় আইনি স্পষ্টতা আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তার মতে, ক্লাউড অবকাঠামো, এআই, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং সীমান্তপারের তথ্যের কারণে সাইবার অপরাধ তদন্ত ক্রমেই জটিল হচ্ছে। তাই শুধু অপরাধের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ বা শাস্তি বাড়ানোর পরিবর্তে তদন্তের সক্ষমতা, প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা এবং আদালতে তা উপস্থাপনের মান উন্নত করা জরুরি।
সরকারের বক্তব্য : অপব্যবহার ঠেকানোই লক্ষ্য
প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সরকার বলছে, খসড়াটি এখনো আলোচনা ও প্রণয়নের পর্যায়ে রয়েছে। আইনটি এমনভাবে তৈরি করতে চায় সরকার, যাতে ভবিষ্যতে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে এর অপব্যবহার না হয়।
সাংবাদিকদের সাথে আলোচনার পর তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান জানিয়েছেন, গালিগালাজ ও হয়রানিমূলক আচরণ কিভাবে আইনের আওতায় আনা যায়, আবার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও কিভাবে অক্ষুণœ রাখা যায়- সেই ভারসাম্য নিশ্চিত করতে আলোচনা চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য হবে ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে আইনের অপব্যবহার না ঘটে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকেও সাইবার অপরাধ, অনলাইন বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকারের কথা উল্লেখ করেছেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অংশীজনদের সাথে আলোচনা শেষে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের প্রক্রিয়া এগোবে।
আইসিএনএলের সুপারিশ হলো, প্রস্তাবিত আইনের অস্পষ্ট বিধান সংশোধন, জনপরামর্শের সুযোগ বাড়ানো, কনটেন্ট অপসারণে স্বাধীন বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করা এবং বক্তব্যসংক্রান্ত অপরাধে শাস্তির মাত্রা পুনর্বিবেচনা করা। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হলে আইনটির ভাষা, প্রয়োগপদ্ধতি ও জবাবদিহির কাঠামো আরো সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।

Advertisement