ইশরাক, রাজনীতি
ইশরাক হোসেন। নয়া দিগন্ত

 

Advertisement

আত্মোপলব্ধি ও সংশোধন না হলে রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে সদ্য পদত্যাগকারী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের। এমনটিই মনে করছেন তার দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, একজন সাধারণ মানুষের আচরণ আর একজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের আচরণ এক নয়। দলের একজন নেতার সামান্য অসতর্কতাও কখনো পুরো সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। যেটি ঘটেছে ইশরাক হোসেনের ক্ষেত্রে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তার উদ্যোগ, লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে ন্যূনতম দ্বিধার অবকাশ নেই। তবে কাজের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে আইনগত প্রশ্ন ও সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।  
রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর জেরে তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তার বক্তব্য ছিল, এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে যাওয়ার আগে তাদের সাথে সমন্বয় করা হয়নি। ইশরাকও সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন। ফলে মাদকবিরোধী উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়ে যতটা আলোচনা হয়েছে, তারচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে- সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পদ্ধতি।
এই ঘটনার পর সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠলে গত ১৯ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জবাবদিহিতার কঠোর বার্তা আসার পর দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে ইশরাক এই পদক্ষেপ নেন। ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মরহুম সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাকের এই পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন ঠিক কোন দিকে মোড় নেবে- তা নিয়ে খোদ দলীয় নেতাকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত উঠে আসছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবন আটকে রেখে টানা আন্দোলনের ঘটনায় নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির পেছনে দৌড়ানো, জিয়াউর রহমানের মাজারে গিয়ে ঠেলাঠেলি কিংবা জাতীয় স্মৃতি সৌধে তিন বাহিনীর প্রধানের সাথে স্যালুটে অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো নিয়েও গত কয়েক মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনার শিকার হন তিনি।
গত শনিবার ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকার গেণ্ডারিয়ার মুন্সিরটেক গুন্টিঘর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সেখানে তার ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত পিস্তল উঁচিয়ে মাদক কারবারিদের ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তার দেহরক্ষীদের একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে এবং এক তরুণকে লাথি মারতে দেখা যায়। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণে সুশীল সমাজ এবং রাজনৈতিক অঙ্গন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। আইনিভাবে লাইসেন্সধারী হলেও অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি ছড়ানো আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এ নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় শৃঙ্খলা ও সুশাসনের স্বার্থে ইশরাককে পদত্যাগের স্পষ্ট নির্দেশ দেন। যদিও সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দাবি করেছেন যে, দল যেন বিব্রত না হয় এবং তার কারণে যেন সরকারের অর্জন মøান না হয়, সে জন্যই তিনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। সোমবারের সেই সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেছেন, আমি জমি দখল বা চাঁদা তুলতে যাই নাই, মাদক নির্মূলের জন্য গিয়েছিলাম। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে আমি ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা অস্ত্র হাতে রেখেছিলাম।
এ দিকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের পর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে নাকি এটি নতুন কোনো মোড়- তা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। অনেকেই বলছেন, মাঠপর্যায়ের আপসহীন রাজনীতি ও কর্মী হিসেবে ফিরতে পারেন ইশরাক। তাদের দাবি, ইশরাক হোসেন নিজেই স্পষ্ট করেছেন, মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন না। সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে নয় বরং বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তিনি ঢাকা-৬ আসনসহ দেশজুড়ে মাদক নির্মূল ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এ ছাড়া তরুণদের সংগঠন ‘প্রজন্ম দল’-এর সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে তিনি দেশব্যাপী জেলা সফর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তার এই অবস্থান ইঙ্গিত করে যে তিনি ক্ষমতার বলয় থেকে ছিটকে পড়লেও রাজপথের কর্মী এবং জনভিত্তির রাজনীতিতে পুনরায় মননিবেশ করতে চান।
জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন নয়া দিগন্তকে বলেন, ইশরাকের এই পদত্যাগ মোটেই কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয় বরং এটি এক ধরনের আত্মোপলব্ধি ও সংশোধনের প্রক্রিয়া। তিনি মনে করেন, জনগণের ভালোবাসা ও নিজের ভুল শুধরে নেয়ার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে ইশরাক হোসেনের জন্য আরো বৃহত্তর ও জনমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। দলের হাইকমান্ডের সাথে সম্পর্ক একেবারে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে তার মূল্যায়নের সুযোগ থেকেই যায়। তিনি আরো বলেন, তার সাম্প্রতিক কাজের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ও মতভিন্নতা থাকতে পারে। তবে যে উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এত আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, সেটির লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে ন্যূনতম দ্বিধার অবকাশ নেই। সাময়িক যেকোনো সিদ্ধান্তের চেয়ে দল, দেশ ও মানুষের কল্যাণে তার অবদান এবং আন্তরিক অবস্থান অনেক বেশি অর্থবহ। 
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, ইশরাকের এই পদত্যাগ প্রমাণ করে যে, ব্যক্তি যত জনপ্রিয় বা শক্তিশালীই হোক না কেন, জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে কেউ নয়, যা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য পরবর্তীতে একটি শৃঙ্খলিত ও পরিপক্ব ভিত্তি তৈরি করতে পারে। এই ঘটনাটি ইশরাকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি বড় ধাক্কা হলেও এটি দল ও সরকারের জন্য সুশাসনের নজির সৃষ্টি করেছে।
সরকারের অভ্যন্তরে এই পদক্ষেপের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জানান, ইশরাকের উদ্দেশ হয়তো খারাপ ছিল না, তিনি নিজের এলাকার মাদক সমস্যা সমাধানে আবেগের বশে এমনটি করেছিলেন। তবে এই অতিরিক্ত কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে অন্য মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যরা ভবিষ্যতে নিজ উদ্যোগে কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত বা ভয় পেতে পারেন। একজন শীর্ষ নেতা বলেন, ইশরাক হোসেন পুরোপুরি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। কেবল পদত্যাগই যথেষ্ট নয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে বিগত দিনে আন্দোলনের মাঠে ইশরাকের সক্রিয় ভূমিকা ও তৃণমূলের সাথে সুসম্পর্কের কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ তার প্রতি সহানুভূতিশীল। কয়েকজন সংসদ সদস্যের যুক্তি, এ ঘটনাকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা জমি দখলের মতো অপরাধের কাতারে ফেলা উচিত হয়নি। কারণ ইশরাকের মাদক নির্মূলের ঘোষণা দিয়ে এটা করছিলেন, যা বিএনপির অন্যতম অগ্রাধিকার। বিএনপির এক নারী এমপি বলেন, একটি ভুলের জন্য কারো পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বা বছরের পর বছর ধরে তার রাখা অবদান উপেক্ষা করা ঠিক নয়। 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। সবাইকে দলের শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনেই চলতে হবে। দলীয় হাইকমান্ড স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বিগত আওয়ামী শাসনের সময় রাজপথে ত্যাগ স্বীকারের দোহাই দিয়ে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবে না। তিনি বলেন, রাজনীতিতে একজন নেতা হতে অনেক কাঠখোড় পোহাতে হয় কিন্তু সামাণ্য ভুলের কারণে সারা জীবনের অর্জনও শেষ হয়ে যায়। তবে ইশরাক হোসেনের ক্ষেত্রে সে রকম কিছু ঘটবে কি না- সেটি তার ভবিষ্যৎ কর্মকান্ডই বলে দেবে। 
ইশরাকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি অস্ত্র প্রদর্শন ও হুমকির ঘটনায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করে, তবে আইনি লড়াইয়ে তার শক্তি ক্ষয় হতে পারে। এতে আইনিভাবে তিনি দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন। তখন এর দায় সরকার না-ও নিতে পারে। অস্ত্র উঁচিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরির যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা অহিংস ও কল্যাণমুখী কাজের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করতে হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, হাইকমান্ডের আস্থা অর্জন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর মনোভাবের পর দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শতভাগ অনুগত থেকে মাঠপর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করাই হবে তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হারুন রশীদের মতে, ক্ষমতা মানুষকে শুধু সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেয় না, নিজের সীমা চিনে নেয়ার দায়িত্বও দেয়। একজন সাধারণ মানুষের আচরণ আর একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর আচরণের সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিঘাত এক নয়। ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতার সামান্য অসতর্কতাও কখনো পুরো সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাটি তাই কেবল একজন তরুণ রাজনীতিকের মন্ত্রিত্ব হারানোর গল্প নয়, এটি ক্ষমতার ব্যবহার, রাজনৈতিক পরিপক্বতা এবং জবাবদিহির প্রশ্নে নতুন করে ভাবার উপলক্ষ। তিনি আরো বলছেন, ইশরাকের ঘটনাটি অন্যদের চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি রাজনীতিতে একেবারে অপরিচিত মুখ নন। তার রাজনৈতিক উত্থান দ্রুত হয়েছে; কিন্তু রাজনৈতিক পরিচিতি ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সাথে যে সংযম, প্রজ্ঞা ও পরিমিতিবোধ থাকা প্রয়োজন, তার পরীক্ষাও এসেছে দ্রুত। ইশরাকের পদত্যাগ থেকে যদি সরকার ও তার নেতারা এই শিক্ষা গ্রহণ করেন, তাহলে আট মাসের মাথায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নিছক একটি রাজনৈতিক বিতর্ক হয়ে থাকবে না বরং দায়িত্বশীল রাজনীতির পথে একটি প্রয়োজনীয় বাঁক হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায় পদত্যাগের পর পদত্যাগ ঘটবে, মুখ বদলাবে; কিন্তু ক্ষমতার পুরনো সংস্কৃতি অক্ষতই থেকে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইশরাক হোসেনের প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো কেবল তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ধাক্কাই নয়, বরং এটি বর্তমান সরকারের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানের অংশ। ইতঃপূর্বে সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ এবং বর্তমানের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে. সরকার দলীয় শৃঙ্খলার ব্যাপারে আপসহীন। ইশরাক হোসেন তরুণ এবং জনভিত্তি সম্পন্ন নেতা হওয়ায় তার রাজনৈতিক পথ এখানেই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে না। তবে ক্ষমতার লোভ সংবরণ করে এবং আবেগের বশে আইন নিজের হাতে না তুলে, একজন পরিপক্ব ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে পুনর্গঠন করাই এখন তার সামনে প্রধান পথ। তিনি যদি সত্যিকার অর্থেই মাঠপর্যায়ে মাদকের বিরুদ্ধে অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক লড়াই অব্যাহত রাখতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে তার জন্য আবার মূল ধারার রাজনীতিতে সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হতে পারে।