
- সাক্ষ্যগ্রহণে বিরতির পর অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন
- বিচার ও তদন্তের অপেক্ষায় গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা
গুম, গোপন আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান টিএফআই ও জেআইসি মামলার দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার পর বিচার শুরু হওয়ায় তাদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল তা মামলা দু’টির সাক্ষ্যগ্রহণে বিরতি এবং পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় এখন নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদজশরের (ডিজিএফআই) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল জেআইসি, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত সংশ্লিষ্ট গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলা দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দুই মামলায় আসামি ৩০ জন। শেখ হাসিনা ও তার তৎকালীন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক উভয় মামলায় আসামি হওয়ায় স্বতন্ত্র আসামির সংখ্যা ২৮।
র্যাবের টিএফআই সেল মামলায় সর্বশেষ ১৪ আগস্ট এবং ডিজিএফআইয়ের জেআইসি বা আয়নাঘর মামলায় ১৮ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছিল। এরপর একাধিক শুনানির তারিখ নির্ধারিত হলেও নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে মামলা দু’টির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া কেন ধীর হয়ে পড়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ দিকে আসামিদের পরিবারের সদস্যরা সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে দেখা করে এ বিচার সেনা আইনে করার দাবি জানিয়েছেন এমন গুঞ্জন রয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কথিত ওই সাক্ষাতের সাথে বিচারপ্রক্রিয়ার গতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না- সেটিও নিশ্চিত নয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর মো: আবদুস সোবহান তরফদার বলেছেন, মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা না জেনে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। এসব মামলার বিষয়ে কোনো চাপ রয়েছে এমন তথ্যও তার কাছে নেই।
আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ট্রাইব্যুনালে চলমান কোনো মামলা প্রয়োজনে সেনা আইনে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করেন, নো কমেন্টস।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া নয়া দিগন্তকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে বর্ণিত অপরাধ এবং সেনা আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ এক নয়। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে অপরাধের বিচার চলছে, তা সেনা আইনে স্থানান্তর করার সুযোগ নেই। তিনি শ্রম আদালত, পারিবারিক আদালত ও অর্থঋণ আদালতের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রতিটি আদালত নির্দিষ্ট আইন ও এখতিয়ারের ভিত্তিতে বিচার করে। পারিবারিক আদালতে বিচারযোগ্য বিরোধ যেমন শ্রম আদালতে নেয়া যায় না, তেমনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংজ্ঞায়িত অপরাধের বিচারও সেনা আইনের অধীনে করা যায় না।
ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, টিএফআই সেল ও জেআইসিতে গুমের অভিযোগে যে বিচার চলছে, সেগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ। এসব অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের; সেনা আইনে এ ধরনের অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার নেই। তার মতে, সরকার চাইলে আইনগতভাবে বিচারাধীন মামলাগুলো সেনা আইনে স্থানান্তর করতে পারবে না।
মামলাগুলোর কার্যক্রমে বিরতি এবং সেনা আইনে বিচার স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনগতভাবে এমন পদক্ষেপ সম্ভব নয়। তবে আইনগত ভিত্তি না থাকলেও কেউ বেআইনিভাবে কিছু করার চেষ্টা করতে পারে- এ আশঙ্কাও করেন তিনি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল আইনে যেসব অপরাধের সংজ্ঞা ও বিচারব্যবস্থা নির্ধারিত রয়েছে, সেগুলোর বিচার ওই আইন অনুযায়ীই হওয়া উচিত।
ড. শরীফ ভূঁইয়া এ সময় গুম ও হত্যার অভিযোগগুলোর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বহু মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিচার না হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যাহত হবে।
দুই মামলায় ৩০ আসামি
প্রতিবেদনে সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা দু’টির ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এর মধ্যে র্যাবের গোপন বন্দিশালা টিএফআই সেলে গুম, বেআইনি আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য দিকে ডিজিএফআইয়ের জেআইসি বা আয়নাঘরে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে আসামি করা হয়েছে ১৩ জনকে। দুই মামলায় শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নাম থাকায় মোট স্বতন্ত্র আসামির সংখ্যা ২৮।
টিএফআই মামলায় যারা আসামি
টিএফআই সেল-সংক্রান্ত মামলায় শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন এবং ব্যারিস্টার মো: হারুন অর রশিদ।
এ ছাড়া র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো: জাহাঙ্গীর আলম, তৌফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কে এম আজাদ, মো: কামরুল হাসান, মো: মাহবুব আলম ও আবদুল্লাহ আল মোমেনকে আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক মো: সারোয়ার বিন কাশেম, মো: খায়রুল ইসলাম, মো: মশিউর রহমান জুয়েল এবং সাইফুল ইসলাম সুমনও এ মামলার আসামি।
আয়নাঘর মামলায় ১৩ জন
ডিজিএফআইয়ের জেআইসি বা আয়নাঘর-সংক্রান্ত মামলায় শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছাড়াও আসামি করা হয়েছে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব:) মো: সাইফুল আবেদীন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব:) হামিদুল হককে।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিটিআইবি) পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, শেখ মো: সারোয়ার হোসেন, কবির আহমেদ, মো: মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী এবং মখছুরুল হক।
মামলা দু’টিতে এ পর্যন্ত ছয়জন করে ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। তবে জেআইসি-সংক্রান্ত মামলায় গুমের শিকার হুম্মাম কাদের চৌধুরীর জেরা বাকি থাকার কথাও বলা হয়েছে।
আরো গুম ও হত্যার অভিযোগ
টিএফআই ও জেআইসি-সংক্রান্ত মামলার বাইরেও র্যাব ও ডিজিএফআইয়ে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুম, গোপন আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে এ ধরনের শতাধিক অভিযোগের প্রসঙ্গ এসেছে। তবে এসব অভিযোগের কতটি তদন্তাধীন, কতটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত এবং কতটি বিচারের পর্যায়ে রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।
গুমের অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অনেকেই এখনো জানেন না তাদের অভিযোগের তদন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে কিংবা পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপ কবে নেয়া হবে। তাদের কাছে বিচার মানে শুধু মামলা দায়ের নয়, বরং নিখোঁজ স্বজনের পরিণতি জানা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা।
৬ বছরেও স্বামীর খোঁজ পাননি নাজমা
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ রাতে গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজ বাসা থেকে যুবদল নেতা সুজনকে র্যাব পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তার স্ত্রী নাজমা বেগমের। তার ভাষ্য, গভীর রাতে বাসায় প্রবেশ করে লোকজন সুজনের খোঁজ করেন। পরে তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে নাজমা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের আটকে রাখা হয়।
নয়া দিগন্তকে নাজমা জানান, স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি টঙ্গী পূর্ব থানায় যান। সেখন থেকে ওসি কামাল তাকে র্যাব-১-এর কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। পরদিন সেখানে গিয়ে স্বামীকে তুলে নেয়ার বিষয়ে খোঁজ করলেও কোনো তথ্য পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, থানায়ও অভিযোগ নিয়ে মামলা করা হয়নি।
নাজমার অভিযোগ, ওই ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য জড়িত ছিলেন। যাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর, র্যাব-১-এর তৎকালীন পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম, র্যাব সদস্য জসিম ও জাহিদ অন্যতম। এ ছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মতি, জাহাঙ্গীর আলম ও রজব আলী জড়িত। তবে উল্লেখিত এই ব্যক্তিদের নাম নিয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি গুমসংক্রান্ত কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ দেন। নাজমা বলেন, স্বামীকে গুমের সাথে জড়িতদের বিচার চান তিনি। তাদের দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার সময় তাদের সন্তানদের একজনের বয়স ছিল ১০ বছর, অন্য জনের দুই বছর।
শাহাদাতের পরিবারও বিচারের অপেক্ষায়
আরেক ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ উমর নাসিফ শাহাদাতের পরিবারের অভিযোগ, ২০১৩ সালের ৪ মে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসা থেকে তাকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১২ মে রাজশাহীর বিনোদপুরে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচারকেন্দ্রের মাঠে তার লাশ পাওয়া যায়।
শাহাদাতের ছোট ভাই হাসানুল বান্না সোহাগ নয়া দিগন্তকে বলেন, তার ভাই ঢাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। মিরপুরে এক পরিচিত ব্যক্তির বাসায় অবস্থানের সময় তাকে তুলে নেয়ার খবর আসে। সোহাগের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীরা র্যাবের পোশাক ও চিহ্নযুক্ত গাড়ির কথা জানিয়েছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, শাহাদাতকে তুলে নেয়ার পর কয়েক দিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে রাজশাহীতে তার লাশ পাওয়ার ঘটনায় পরিবার মনে করে, তাকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছিল এবং ঘটনাটি বন্দুকযুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়।
সোহাগের ভাষ্য, সে সময় তারা আইনগত প্রতিকার পেতে সমস্যায় পড়েছিলেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেন। তার দাবি, অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন; আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বা পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।
শাহাদাতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার নথি, লাশ উদ্ধারের বিবরণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং তদন্তের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেয়া প্রয়োজন।
স্বজনদের প্রশ্ন- বিচার কত দূর?
গুমের অভিযোগে মামলা করা পরিবারগুলোর কাছে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি শুধু আদালতের একটি বিষয় নয়। তাদের অনেকের কাছে এটি বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার একমাত্র পথ। কেউ জানতে চান নিখোঁজ স্বজনের পরিণতি, কেউ চান অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আবার কেউ চান দায়ীদের বিচার।
সুজনের স্ত্রী নাজমা ও শাহাদাতের ভাই হাসানুল বান্না সোহাগের বক্তব্যে সেই অপেক্ষার কথাই উঠে এসেছে। তাদের অভিযোগ, অতীতে প্রতিকার পাওয়া কঠিন ছিল। এখন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জানানোর পরও তদন্তের অগ্রগতি ও বিচারিক পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।
টিএফআই ও জেআইসি মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তথ্য প্রকাশ, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সাথে আসামিদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার ও আদালতের প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় রাখাও জরুরি বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
ড. শরীফ ভূঁইয়ার মতে, দীর্ঘ দিন নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর প্রত্যাশা একটাই- অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই হোক, বিচারপ্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে এগোক এবং আইন অনুযায়ী দায় নির্ধারিত হওয়াটা ন্যায় বিচারের জন্য জরুরি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








