কিশোর গ্যাং, ব্লকরেইড

 

Advertisement

রাজধানীতে কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয়েছে বিশেষ ব্লকরেইড। এতে প্রথম দিনেই রাজধানীর চারটি এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৩৬৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি বিদেশী পিস্তল, একটি সিঙ্গেল শুটার গান, বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজধানীতে ‘কিশোর গ্যাং’ নামে কোনো গোষ্ঠী থাকবে না। মোহাম্মদপুর, আদাবর ও পল্লবী এলাকা থেকে কিশোর গ্যাংবিরোধী কঠোর অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো মহানগর থেকে কিশোর গ্যাং নির্মূল করা হবে। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, পল্লবী, আদাবর ও গেন্ডারিয়া এলাকায় একযোগে ব্লকরেইড শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের লক্ষ্যে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে টানা চার ঘণ্টা পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সোয়াট, এসআরবি, এপিবিএন ও ডগ স্কোয়াডের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন অপরাধীদের আটক করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চারটি এলাকায় অভিযানে মোট ৩৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে পল্লবী এলাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০২ জন, মোহাম্মদপুর থেকে ৭৩ জন, আদাবর থেকে ৫৫ জন এবং গেন্ডারিয়া থেকে ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 
ডিএমপির তথ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারামারি, আধিপত্য বিস্তার এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধে বিভিন্ন বয়সী তরুণদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল আবাসিক এলাকা, অলিগলি, বাজার ও সড়ককেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং এলাকাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্লকরেইডের মাধ্যমে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে একযোগে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক জব্দ এবং অপরাধে জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও পল্লবীকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অভিযান পর্যায়ক্রমে মহানগরের অন্যান্য এলাকাতেও বিস্তৃত করা হবে। গেন্ডারিয়াসহ চারটি এলাকায় প্রথম দিনের অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 
পুলিশ সূত্র বলছে. প্রথম দিনের অভিযানে ৩৬৪ জনকে গ্রেফতার এবং অস্ত্র-মাদক জব্দের মধ্য দিয়ে পুলিশের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে। এখন ধারাবাহিক অভিযান, সুনির্দিষ্ট তদন্ত এবং অপরাধের মূল হোতাদের শনাক্তের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরো বেগবান করা হবে।