
কামরুজ্জামান চরফ্যাসন (ভোলা)
ভোলার গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড়, জমির আইল কিংবা রাস্তার পাশে সারি সারি সুপারি গাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা সুপারি। একসময় পান-সুপারির অনুষঙ্গ হিসেবে পরিচিত এই ফল এখন বদলে দিচ্ছে দ্বীপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। বিশেষ করে চরফ্যাসনে সুপারি চাষ অনেক পরিবারের নিয়মিত আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তথ্যানুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২২ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে এক লাখ আট হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ভোলায় ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার মেট্রিকটন, যা বিভাগের মোট উৎপাদনের ৬০ শতাংশের বেশি।
ভোলার সবচেয়ে বড় উপজেলা চরফ্যাসনের প্রায় প্রতিটি বসতবাড়িতেই কমবেশি সুপারি গাছ রয়েছে। কৃষকরা জানান, সুপারি চাষে আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় কিংবা জমির আইলে গাছ লাগানো যায়। একবার গাছ লাগানোর পর দীর্ঘ সময় ফলন পাওয়া যায় এবং পরিচর্যা ও উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম।
চাষি শামিম পাটোয়ারীর ১৬০ শতাংশ জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। তিনি বলেন, একবার গাছ লাগালে ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। অনেক পরিবারের ৫০০-৬০০টি গাছ রয়েছে, যেগুলো থেকে বছরে তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয়।
এখন সুপারির ভরা মৌসুম। আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত চরফ্যাসনের হাটবাজারগুলোতে চলে জমজমাট বেচাকেনা। শুধু চরফ্যাসন পৌর শহরেই রয়েছে প্রায় ৩০টি আড়ত। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এসব আড়তে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার সুপারি বেচাকেনা হয়। আকারভেদে বর্তমানে ৩২০টি সুপারি বা এক ‘বি’ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চরফ্যাসনের সুপারি যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়, রংপুর, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, ধান, ইলিশ ও নারিকেলের পাশাপাশি সুপারি এখন চরফ্যাসনের অন্যতম অর্থকরী ফসল। বসতভিটার অব্যবহৃত জায়গায় বেড়ে ওঠা এই গাছই ক্রমে বহু পরিবারের আয় ও গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠছে।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








