
নয়া দিগন্তের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ব্যুরো ও অফিস প্রধান এবং জেলা প্রতিনিধিদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে নয়া দিগন্তের বোর্ডরুমে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ব্যুরো ও অফিস প্রধান এবং জেলা প্রতিনিধিরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে অংশ নেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এক্সিকিউটিভ এডিটর মাসুমুর রহমান খলিলী। নয়া দিগন্তের ন্যাশনাল ডেস্কের ইনচার্জ মীম ওয়ালীউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন নয়া দিগন্তের চিফ রিপোর্টার ও ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, সিটি এডিটর ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম, অনলাইন শিফট ইনচার্জ সাবরিনা সোবহান এবং ডিজিটাল ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান, জিএম মার্কেটিং আনোয়ারুল ইসলাম জয়, জিএম সার্কুলেশন মির্জা হেলাল ও মার্কেটিং ম্যানেজার আমির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, সাংবাদিকরা কোনো রাজনৈতিক কর্মীর মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারেন না। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না। নয়া দিগন্তের গ্রহণযোগ্যতা আরো বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ছাড়াও সাহসের সাথে সংবাদ পরিবেশনে প্রতিনিধিদের তিনি উদ্বুদ্ধ করেন।
নয়া দিগন্ত সম্পাদক আরো বলেন, অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ ও পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। সাংবাদিকদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যার কারণে তাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ট্যাগের সাথে যুক্ত করা যায়। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে পেশাগত মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার পাশাপাশি ইতিবাচক সাংবাদিকতার ওপরও নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নয়া দিগন্তের এক্সিকিউটিভ এডিটর মাসুমুর রহমান খলিলী বলেন, ঢাকার বাইরের প্রতিনিধিদের অবদানকে প্রতিষ্ঠান গভীরভাবে উপলব্ধি করে। মফস্বলে সাংবাদিকতার বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের আয়-ব্যয়ের বাস্তবতার কারণে অনেক সময় প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তবে প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি আরো বলেন, নয়া দিগন্তের অনলাইনের পাঠক ক্রমাগত বাড়ছে এবং দেশের গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে নয়া দিগন্তের অনলাইন নেটওয়ার্ক একটি বড় পরিসরে রয়েছে। গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ হিসেবে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মফস্বল প্রতিনিধিদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। প্রত্যেক প্রতিনিধিকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। মানুষের পড়ার অভ্যাস ও সংবাদ গ্রহণের ধরন পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাঠকের পরিবর্তিত চাহিদা ও অভ্যাসকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। মাসুমুর রহমান খলিলী সাংবাদিক কমিউনিটিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
নয়া দিগন্তের সিটি এডিটর ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রথম সারির একটি পত্রিকার প্রতিনিধি হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং শক্তিশালী একটি পেশাগত অবস্থান। প্রতিনিধিদের অর্থনৈতিক বিষয়সহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে প্রতিষ্ঠান সচেতন রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করছে। নয়া দিগন্তকে সামনে এগিয়ে নিতে প্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নয়া দিগন্তের চিফ রিপোর্টার এবং ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, একটি পত্রিকাকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে সার্কুলেশনের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সার্কুলেশন ও বিজ্ঞাপন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর সাংবাদিকরা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু সে পরিস্থিতি থেকে এখন আমরা বেরিয়ে এসেছি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার, বিরোধী দল ও সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদেরও এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে বক্তারা মফস্বল সাংবাদিকতার বিভিন্ন বাস্তবতা, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের মান উন্নয়ন, অনলাইন সাংবাদিকতার বিস্তৃত সুযোগ, পাঠকের পরিবর্তিত সংবাদ গ্রহণের ধরন, সার্কুলেশন ও বিজ্ঞাপন বৃদ্ধি এবং প্রতিনিধিদের পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা নয়া দিগন্তের সংবাদ ও অনলাইন কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








