
সারা দেশের গৌরব ঐতিহ্যবাহী রেড চিটাগাং ক্যাটল বা অষ্টমুখী লাল ষাঁড় ও গরু এখন অনেকটাই হুমকির মুখে রয়েছে। এই অষ্টমুখী লাল গরুর জাত সংরক্ষণে প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার মেয়াদ পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও নতুনভাবে সংরক্ষণ প্রকল্পের কোনো খবর নেই। ফলে এখন রেড চিটাগাং ক্যাটল বা চট্টগ্রামের অষ্টমুখী লাল গরু হারিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।
দ্রুত রেড চিটাগাং ক্যাটল সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সরকারি উদ্যোগ বা প্রকল্প প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের রেড চিটাগাং ক্যাটল সমবায় সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনিস্টিটিউটের উদ্যোগে যৌথভাবে প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি রেড চিটাগাং ক্যাটল জাত (আরসিসি) উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। এ সময় লাল গরু সংরক্ষণ প্রকল্পের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়। এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০১১ সালের জুনে শেষ হয়ে যায়। এর দির্ঘদিন পরে দ্বিতীয় দফা ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রেড চিটাগাং ক্যাটেল উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্প (২য় পর্যায়) গ্রহণ করা হয়। জানুয়ারি ২০১৮ থেকে শুরু হওয়া প্রকল্প ডিসেম্বর ২০২১এ শেষ হয়। এরপর পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হলেও নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়নি।
বাংলাদেশ প্রাণী গবেষণা ইনস্টিটিউট সর্বপ্রথম ২০০১ সালে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে অষ্টমুখী লাল গরু সংরক্ষণের কাজ শুরু করে। এর পরে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. ফজলুল হক ভূঁইয়ার তত্ত্বাবধানে এবং ইউএসডিএ নামে একটি বিদেশী এনজিওর সহায়তায় রেড চিটাগাং ক্যাটল বা লাল গরুর জাত সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে দেশীয় প্রজাতির দুর্লভ এই লাল গরু সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী অঞ্চলের এই দুর্লভ প্রজাতির অষ্টমুখী লাল গরুর দুধ যেমন মিষ্টি, তেমনি এর গোশতও খুব সুস্বাদু। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের গরুর মধ্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের বৈশিষ্ট পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চলের গরুর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এর শরীর, শিং, চোখ, ঠোট, চোখের ভ্রু, ক্ষুর, লেজ এবং যৌনাঙ্গের রঙও লাল। তাই এই বিশেষ জাতের গরুটিকে লাল বা অষ্টমুখী লাল গরু বলা হয়। একটি পূর্ণ বয়স্ক লাল গাভীর ওজন হয় ২০০ থেকে ২৫০ কেজি পর্যন্ত। ষাঁড়ের ওজন হয় ৩০০ থেকে সাড়ে ৪৫০ কেজি পর্যন্ত। তা ছাড়া পূর্ণ বয়স্ক একটি গাভী বাড়তি খাবার ছাড়াই সাত থেকে আট লিটার দুধ দিয়ে থাকে এবং প্রতি বছরই বাচ্চা দিতে সক্ষম হয়। দেশীয় আবহাওয়া ও সাধারণ খাদ্য দিয়ে এ জাতীয় গরু লালন পালন খুব সহজ। তাই এই জাতের গরুর মাধ্যমে দেশে বড় বড় গরুর খামার গড়ে তোলাও সম্ভব। এ জাতের গরু লালন-পালন খরচ কম ও দেশীয় আবহাওয়ায় সহজ বিধায় ব্যাপকভাবে এ গরুর খামার গড়ে তোলা হলে আগামীতে দেশের দুধ ও গরুর গোশতের ঘাটতি মেটানো সম্ভব বলে স্থানীয় খামারিরা মনে করেন।
রেড চিটাগাং ক্যাটল বা অষ্টমুখী লাল গরু বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব এলাকায় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার বিশেষ করে চন্দনাইশ, পটিয়া, আনোয়ারা, রাউজান ও সাতকানিয়া উপজেলায় এ গরুর উৎপত্তিস্থল। তবে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় এ জাতীয় গরু বেশী।
জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার দুর্লভ অষ্টমুখী লাল রঙের গরু সংরক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে এর বিস্তার লাভে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এতে ব্যাপক সফলতাও আসে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট সাভার, ঢাকা ও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, পটিয়া, আনোয়ারা, সাতকানিয়া ও রাউজান উপজেলা নিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করে প্রতিটি উপজেলায় রেড চিটাগাং ক্যাটল সমবায় সমিতিও গড়ে উঠেছিল।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








