‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ : দ্য বিলিয়ন-ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক অধিবেশন
‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ : দ্য বিলিয়ন-ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক অধিবেশন। সংগৃহীত

ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে বর্তমানে ১৫টি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে পিপিপির আওতায় এসব প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement

এজন্য বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি ও উৎপাদন খাতের বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফোরামের সেন্টার স্টেজে ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ : দ্য বিলিয়ন-ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট’ শীর্ষক অধিবেশনে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে এসব কথা বলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি।

জাতিসঙ্ঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি) আয়োজিত ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবরের এ ফোরামে অধিবেশনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী এবং বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ১০০ জন অংশগ্রহণ করেন।

দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বিনিয়োগ ফোরাম-২০২৬-এ বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার পর বিনিয়োগকারীরা এসব প্রকল্পে কীভাবে যুক্ত হতে পারেন, তা জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি অধিবেশনে বাংলাদেশের তরুণ কর্মশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় ও বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগ তুলে ধরেন। বিনিয়োগকারীদের সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগের বিষয়েও তিনি অবহিত করেন।

উপস্থাপনায় সরকারি জমিতে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি অবকাঠামো, প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, বন্দর স্থাপনা এবং মাতারবাড়ী গ্রিন ডকইয়ার্ডে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। এছাড়া ইলেকট্রনিকস, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, ‘আমরা যেসব প্রকল্প তুলে ধরেছি, সেগুলোতে কীভাবে অংশ নেয়া যায়, তা জানতে চেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর ও ড্রাই ডকে একসাথে কাজ করার সুযোগ নিয়েও আঞ্চলিক অংশীদাররা আগ্রহ দেখিয়েছেন। এসব বিনিয়োগ বাংলাদেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আগ্রহীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাব। কোন প্রকল্পে কীভাবে যুক্ত হওয়া যায় এবং আমরা কীভাবে সহায়তা করতে পারি, তা নিয়ে কথা হবে।’

তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এগিয়ে নিতে বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করা, জমি প্রস্তুত করা, নীতিগত সমন্বয় এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্প কাঠামো তৈরির কাজ একীভূত প্রতিষ্ঠানের আওতায় আনার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

অব্যবহৃত সরকারি জমিতে সোনাগাজী সৌরবিদ্যুৎ পিপিপি প্রকল্প এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় একই মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি প্রশ্নের উত্তর দেন।

এছাড়া বিনিয়োগ বিষয়ক পৃথক মন্ত্রীপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের উন্নয়নমূলক প্রভাবকে আরো গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান আশিক চৌধুরী।

তিনি বাংলাদেশের সফল বিনিয়োগের উদাহরণগুলো আরো বেশি তুলে ধরতে ইউএনসিটিএডির প্রতি আহ্বান জানান এবং বিনিয়োগ গ্যারান্টি ও রফতানি ঋণের মডেল অনুসরণ করে বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগ করে নেয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনার প্রস্তাব দেন।

ফোরাম চলাকালে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। বাসস