
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ দেয়া আবাসিক প্লটের অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার। এরই মধ্যে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের বরাদ্দে অনিয়মসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এসব প্লটের নথির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
একই সাথে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয় ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি মো: রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকে আবাসিক প্লট বরাদ্দের অনিয়ম তদন্ত, নতুন সচিবালয় নির্মাণ এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়।
রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ ১,৪১৩ প্লট
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট এক হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয় ৯৪৪টি প্লট।
এসব বরাদ্দে অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি কাজ করছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া প্লটের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কমিটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে।
এ পর্যন্ত পূর্বাচলের ৮৭৪টি ও ঝিলমিলের ২০০টি প্লটের বিষয়ে অনিয়মসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন পাওয়াই চূড়ান্তভাবে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বিজয় দিবসে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর
বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয় ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নতুন সচিবালয় নির্মাণের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
জিয়া-খালেদা জিয়ার কবরস্থানের কাজ ডিসেম্বরে শেষ করার আশা
বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কবরস্থান-সংলগ্ন উদ্যান ও প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা
সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, সরকারি অবকাঠামোয় রুফটপ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে একটি প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব প্যানেল থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি ভবনে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদফতরের চলতি বছরের বিভিন্ন সম্পন্ন কাজের বিবরণ বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। আলোচনা শেষে সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংসদের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মো: লুৎফুজ্জামান বাবর, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, এম মঞ্জুরুল করিম রনি, মো: রুহুল আমিন ও মো: তাজউদ্দীন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








