
বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ পুনরুদ্ধারে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্পিকারের কার্যালয়ে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাকসোদা মাকসোদির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
স্পিকার বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর অর্থ পাচার হয়েছে। এসব অর্থ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘উইনরক ইন্টারন্যাশনাল চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলোতে সংস্থাটির ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।’
বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম কার্বন নিঃসরণ করলেও কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় অঞ্চল, হাওর ও নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জীবিকা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
সাক্ষাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, তৈরি পোশাকশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং বিদেশফেরত শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং কৃষিপণ্য উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশী শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সাক্ষাতে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদল এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








