দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর নয়া দিগন্তের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত ‘সারাদেশের সড়ক নেটওয়ার্কের বেহাল দশা’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বন্যা ও বর্ষণে দেশের মহাসড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিপজ্জনক রূপ নেওয়ায় জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ চুক্তি বিলম্বিত হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন থমকে থাকলেও অর্থনীতি রক্ষা ও যাতায়াত সচল রাখতে দ্রুত সড়ক সংস্কার প্রয়োজন।

Advertisement

জনভোগান্তি নিয়ে লেখা প্রতিবেদনটি আজ নয়া দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—

সারাদেশের সড়ক নেটওয়ার্কের বেহাল দশা
নয়া দিগন্ত প্রতিবেদন

সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বলতে গেলে ধ্বংসপ্রাপ্ত। উপর্যুপরি বন্যা আর দু’দফায় টানা ভারি বর্ষণের কারণে জেলা থেকে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়ক, অধিকাংশ জেলা ও উপজেলা সংযোগ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও ভাঙা আর খানাখন্দে ভরা ইট আর পাথরের কুচি উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের অনুপোযোগী সড়কগুলো সংস্কার কাজ না হওয়ায় ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। খানাখন্দে চলাচলের সময় অনেক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। বাস, ট্রাক বা হালকা যানবাহন প্রায়ই উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মানুষ ঝুঁকি নিয়েই গন্তব্যে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে শ্যামলী থেকে গাবতলী হয়ে সাভার পর্যন্ত সড়কটি এমন রূপ নিয়েছে যে, মনে হয় যেন কোনো মেঠো পথ।

দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে সড়ক যোগাযোগ সচিব জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক পুনর্বাসনের জন্য বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। তবে এখনো ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ায় পুনর্বাসনের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

অন্য দিকে, সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন্যায় দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নজিরবিহীন। তবে এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ যে অংশগুলোতে বেশি ক্ষতি হয়েছে, সেগুলোতে জরুরি মেরামত কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের সড়ক নেটওয়ার্কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে সংস্কার কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) আওতাধীন সড়কগুলোর অবস্থাও বেশ নাজুক। গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ সড়কই বর্ষার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে। ফলে এসব এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে হলে দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার করা জরুরি। তানাহলে দেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।