
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রকৌশল খাতে বৈষম্য ও অস্থিরতা নিরসন, সিলেট, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে চলমান শিক্ষাবর্ষ থেকেই ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের ভর্তির কোটা ও সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) কেন্দ্রীয় কমিটির দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এফডিইবি) শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
এতে বক্তারা বলেন, ১০ম গ্রেডভুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে বিপুলসংখ্যক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের কর্মসংস্থান, পদোন্নতির সুযোগ ও পেশাগত অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারিগরি শিক্ষায় অধ্যয়নরত ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে। এর ফলে প্রকৌশল খাতে অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং সরকারের মর্যাদাও ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের সরকারি আদেশের (জিও) উল্লেখ করে বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত ১০ম গ্রেডে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ এবং ৩৩ শতাংশ পদোন্নতিসহ প্রাপ্য অধিকার থেকে কোনো অবস্থাতেই তাদের বঞ্চিত করা যাবে না।
একইসাথে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে অযৌক্তিক ও একতরফাভাবে নিয়োগবিধি সংশোধনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদসংখ্যা ও পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত করে তাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। পিডিবি, ডিপিডিসি, নেসকোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার পদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। বৈষম্যমূলক ‘নিয়োগবিধি/পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা নীতিমালা’ প্রণয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া হয়রানিমূলক মামলার অজুহাতে শত শত উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ আটকে রাখা হয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, এফডিইবি বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ১০ম গ্রেডভুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ সবার জন্য উন্মুক্ত করার যেকোনো প্রস্তাব, উদ্যোগ বা অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। একইসাথে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত পদ, দায়িত্ব ও পেশাগত অধিকার সংরক্ষণে বিদ্যমান সরকারি বিধি-বিধান এবং জনবল কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা সিলেট, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে চলমান শিক্ষাবর্ষ থেকেই ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের ভর্তির কোটা ও সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার পথ সুগম করা কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এতে বক্তব্য রাখেন ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এফডিইবি) কেন্দ্রীয় সভাপতি ও আইডিইবি’র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো: আব্দুছ ছাত্তার শাহ, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মির্জা মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল কেন্দ্রীয় প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক ইয়াসিন আহমেদ, জাতীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ, গাজীপুর মহানগরীর সভাপতি আইডিইবি জেলা সেক্রেটারি প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ, ইসলামী ব্যাংক ডিপ্রকৌসের সভাপতি প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মতিউর রহমান, এফডিইবি ঢাকা জেলা সভাপতি প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা এফডিইবি সভাপতি মিসর সরকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইডিইবি’র সভাপতি রমিজ উদ্দিন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আবছার উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ইসহাক পিকু, সাবেক ছাত্রনেতা প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা পলিটেকনিক এর সভাপতি মো: মাহিয়ান ইসলাম, কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নেতা তাশরিফ রহমান, ঢাকা পলিটেকনিকের ছাত্র প্রতিনিধি ইয়াসিন আরাফাত ও রাইসুল বারি। এছাড়া মানববন্ধনে ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভিন্ন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








