সেন্টমার্টিন, পর্যটক, পর্যটন
সভায় পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। ইন্টারনেট

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটনের সময়সীমা, পর্যটক সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনা করা হবে।

Advertisement

তিনি বলেন, দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমন বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এসময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম উপস্থিত ছিলেন।    

মন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দ্বীপের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামতের ভিত্তিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো অধিকতর পর্যালোচনা করা হবে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসংবলিত টিকিট ক্রয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণমূলক নির্দেশনা অনুসরণের ওপর জোর দেন। তিনি একই সাথে দ্বীপে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন বন্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন নিরুৎসাহিত করা এবং পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সাথে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় ২০২৬-২০২৭ পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমন ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটক সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সভায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান নির্দেশনাগুলোও পর্যালোচনা করা হয়। ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে একই দিনে ফিরে আসবেন; রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপন করা যাবে। পর্যটকের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি হবে না এবং ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকবে। এসব বিধান পুনর্বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো বলবৎ থাকবে। এসব নির্দেশনায় রাতে সমুদ্রসৈকত ও সংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টি করা; কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয়; সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ রয়েছে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর মো: শফিউল বারী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা, পর্যটন ব্যবসায়ী ও পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন ব্যবসায়ীরা অনলাইনে সভায় অংশ নেন।