
দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে খাতটির প্রকৃত সমস্যা, ঝুঁকি, অনিয়ম ও সংস্কারের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ও পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য চেয়েছে কমিটি।
আগামী বৈঠকে ব্যাংক খাতের পূর্ণাঙ্গ চিত্রের পাশাপাশি সংস্কার বাস্তবায়নের রূপরেখা উপস্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম মনি, মো: জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো: সফিকুর রহমান (কিরন), মো: সাইফুল আলম খান মিলন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো: আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন ও বিবরণী উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপিত তথ্য নিয়ে আলোচনার সময় কমিটির সদস্যরা ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরলেই হবে না; ব্যাংক খাতের প্রকৃত সমস্যা, ঝুঁকি, অনিয়ম, সংস্কারের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে পরিসংখ্যানভিত্তিক ও পরিষ্কার তথ্য প্রয়োজন।
এ কারণে আগামী বৈঠকে ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত এবং বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা উপস্থাপনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়।
আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রস্তাব
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর এমপি মো: সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘দেশের আর্থিক খাতকে সঙ্কট থেকে উত্তরণে শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই। আর্থিক খাতকে রাজনীতি ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের প্রভাবমুক্ত করার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পৃথক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে মালিকানা কেন্দ্রীভূতকরণ বন্ধ করতে হবে। একজন ব্যক্তি ও তার নিকট পরিবারের সদস্যরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের কত শতাংশ শেয়ার রাখতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রেও আইনগত সীমা থাকা দরকার।’
খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে মিলন বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে এ জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থঋণ আদালত ও উচ্চ আদালতে ঋণসংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর পাশাপাশি স্থগিতাদেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমানের চেয়ে বেশি অর্থ জমা দেয়ার বিধান করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কমানোর নামে শুধু ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ, আমানত ও ব্যাংকের মূলধনের প্রকৃত অবস্থা জানতে ফরেনসিক অডিটের প্রয়োজন রয়েছে।’
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








