সালেহ শিবলী
সালেহ শিবলী। সংগৃহীত

 

Advertisement

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্ব শান্তি ও মানবিক বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যেকোনো পরিবর্তনে অস্ত্রের বদলে মূল হাতিয়ার হওয়া উচিত যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা।

আজ তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব শান্তি, মানবতা এবং বিশ্বায়নের যুগে দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়েছেন। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে থাকা প্রধান বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে বলেছেন, তিনি তিনি জাতিসঙ্ঘকে এমন ভূমিকায় দেখতে চান, যেখানে যেকোনো পরিবর্তন আনার হাতিয়ার হবে যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা; অস্ত্র নয়।’

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসঙ্ঘে দেশের নাগরিকদের ক্ষমতায়নের ওপর বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন। 

তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। এই একই বার্তা তিনি দেশে এবং জাতিসঙ্ঘ- উভয় জায়গাতেই দিয়েছেন।

এম ছালেহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগের কথা জাতিসঙ্ঘে তুলে ধরেন। ভাষণ শেষ করার সময় তিনি এমন এক স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা বলেন- যেখানে তরুণেরা নির্দ্বিধায় স্বপ্ন পূরণ করবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে জীবন পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি শিশু নিজের পূর্ণ সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ‘সবার ওপরে মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।’

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটি কেবল গতানুগতিক বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে তিনি একাধিক দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকসহ ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং রোহিঙ্গা সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তার সফরসঙ্গীরাও প্রায় ৫০টি অতিরিক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে বেশ জোরালোভাবে পৌঁছেছে এবং জাতিসঙ্ঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এসব বার্তা পেয়েছেন।’

এই সফরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরকারি হিসাবে মাত্র ৩৫ জন প্রতিনিধি ছিলেন এবং চার্টার্ড বিমানের বদলে নিয়মিত কমার্শিয়াল ফ্লাইটে তিনি ভ্রমণ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে এনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে এক মানবিক সমাজ গড়তে কাজ করছেন।

আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ‘তিনি এমন একটি প্রাণবন্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, বড়রা ছোটদের স্নেহ ও যত্ন করবেন এবং ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে।’

প্রেস সচিব বলেন, অন্যের সামনে উদাহরণ তুলে ধরার আগে প্রধানমন্ত্রী নিজের আচরণে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিকে সহনশীলতা ও মানবতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বলে উল্লেখ করেন। একসাথে তিনি বলেন, সরকার একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

দেশের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল্লাহ ছালেহ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ দমনপীড়ন ও ভয়ের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন একটি পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি করতে এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চান।

প্রেস সচিব বলেন, ‘একটি সুন্দর রাষ্ট্র ও মানবিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলার যে সুযোগ এসেছে, আমরা যদি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, তাহলে তা আমাদের কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ সফরকে শুধু সাধারণ অধিবেশনে দেয়া তার ভাষণ দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি যেসব বিস্তৃত বিষয় উত্থাপন ও আলোচনা করেছেন, সেগুলোর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেই সফরটিকে দেখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), উপ-প্রেস সচিব মো: সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির ও সহকারী প্রেস সচিব মো: নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন। বাসস