প্রধানমন্ত্রী আজ ৩৫ জন সফরসঙ্গী নিয়ে জাতিসঙ্ঘে যাচ্ছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন : পিআইডি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী মাত্র ৩৫ জন সফরসঙ্গী নিয়ে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ নিউ ইয়র্ক রওনা হবেন। তার সফরসঙ্গীর মধ্যে রয়েছেন- অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ ছাড়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন।
এর আগে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ইউএনজিএর ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে সর্বোচ্চ ২৯২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন। এ ছাড়া ২০১৫ সালে ৭০তম অধিবেশনে তিনি ২২৭ জন, ২০১৪ সালে ১৮০ জন এবং ২০১৩ সালে ১৩৪ জনের বহর নিয়ে জাতিসঙ্ঘ সফরে গিয়েছিলেন। তার এই বিশাল সফরসঙ্গী বহরে সাধারণত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকতেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের ওপর আলোকপাত করে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করবেন।  এ ছাড়া তিনি বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রী বংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানসহ উচ্চপর্যায়ের মোট পাঁচটি বৈঠকে অংশ নেবেন। অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ দু’টি ইভেন্টের আয়োজন করেছে।
জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সফররত প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপরও বর্তায়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত আলোচনার মধ্যে রয়েছি, যাতে সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
প্রসঙ্গত, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইউএনজিএ অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে প্রতিনিধি দলের একটি অংশ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাকর্মীদের দ্বারা নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হয়েছিল, যা বাংলাদেশের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল।
সানফ্রান্সিসকোতে একটি পূর্ব পরিকল্পিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব জানান, অনুষ্ঠানটিতে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি যোগ দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, বহুপক্ষীয় সফরের কর্মসূচিতে অনেক কিছুই যোগ-বিয়োগ হতে পারে। বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসঙ্ঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। নিউ ইয়র্কে পৌঁছে তিনি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। এদিন সকালে তিনি জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের জন্য দেয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সাথে অংশগ্রহণ করবেন। ওইথদিন সন্ধ্যায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট আয়োজিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে এই সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চাই। নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।  
মন্ত্রিসভায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অনুমোদন
দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা ও সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে প্রতিযোগিতা বাড়াতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২১তম বৈঠকে এ অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি ক্রয়কার্যে অধিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা হবে। একই সাথে ক্রয় চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিধান সম্প্রসারণ ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালীর আধুনিকায়ন করা হবে।
অধ্যাদেশে টেকসই ক্রয় ব্যবস্থার অধিক সংস্থানের লক্ষ্যে পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা ক্রয়ে নির্ণায়কের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়নের বিধান রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বহুল চর্চিত ‘রেটেড ক্রাইটেরিয়া’ ধারণার সমার্থক এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন নির্ণায়কের ভিত্তিতে ক্রয় প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হবে।
এ ছাড়া সম্পদের সুষম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ ও পেশাগত অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট বিধান স্পষ্টীকরণসহ রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার সংস্থান রাখা হয়েছে।
এসব যুগোপযোগী পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, খসড়া অধ্যাদেশটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।