শীতে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিট ৪০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে

 নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম

Advertisement

হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় কাতারের এলএনজি সরবরাহ সর্বনি¤œ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এর সব চেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানিতে হিমশিম অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ইরানে হামলার আগের দরের চেয়ে প্রায় তিন গুণ অর্থাৎ ৩০ ডলারের কাছাকাছি থাকলেও বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থা আসছে শীতে তা ৪০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে এমন আভাস দিয়েছে। ফলে এলএনজির বৃহৎ উৎপাদক দেশগুলোর সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক বাস্তবতায় জীবাশ্ম জ্বালানিকে রাতারাতি সম্পূর্ণভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই হরমুজের বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমাদের এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণের দিকে যেতে হবে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জীবাশ্ম জ্বালানি ও অন্যান্য উৎসের সমন্বয় থাকবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে- এই শীতে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ব্যাংককে আয়োজিত ‘গ্যাসটেক’ সম্মেলনকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমটি জানাচ্ছে বর্তমানে ইউরোপের গ্যাসের মজুদ ডিসেম্বরের মধ্যে কাক্সিক্ষত ৮০ শতাংশের অনেক নিচে রয়েছে। ফলে আসছে শীতকালীন মজুদ বাড়াতে এশিয়ার দেশগুলোকে ইউরোপের দেশগুলোর সাথে এলএনজি ক্রয়ের প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে। এতে বাড়তি দাম গুনতে হবে বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটি আভাস দিয়েছে। 
একই সময়ে ইরানের সাথে সঙ্ঘাতের কারণে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করতে পারছে না। ফলে এ বছর ৩৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
দাম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে
শিল্পসংশ্লিষ্ট নির্বাহীদের উদ্ধৃত করে রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, এ বছর এশিয়ায় ‘স্পট’ মার্কেটের দর প্রায় তিনগুণ বেড়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ৩০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শীত পড়লে ৪০ ডলারে পৌঁছতে পারে। 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকেন্দ্রিক সঙ্ঘাত বৃদ্ধি ও বিস্তৃতির ফলে বছরের শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বা সীমাবদ্ধতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলএনজি পরিবহনে অব্যাহত বিঘœ ঘটলে মার্কিন সরবরাহের জন্য ইউরোপীয় ক্রেতাদের সাথে এশীয় ক্রেতাদের প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। 
বৈশ্বিক বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে, কাতার বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর কাতারের এলএনজি সরবরাহ অনেকটাই তলানিতে। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে কাতার গড়ে সাড়ে ৬ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ করত। কাতারের এলএনজি সরবরাহ একেবারে তলানিতে পৌঁছার প্রভাব পড়েছে স্পট মার্কেটে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম গত ৪৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। 
জাপান কোরিয়া এলএনজি বেন্সমার্কের তথ্য বলছে, গত ৫২ সপ্তাহে এলএনজির স্পট প্রাইস ৯.৪৫৫ ডলার থেকে বেড়ে ২৭.৫১ ডলারে/এমএমবিটিইউ পৌঁছেছে। এর মধ্যে এক বছরেই দাম বেড়েছে ১৪২.০৫৯ শতাংশ। স্পট মার্কেটে উচ্চ মূল্যের কারণে এশিয়ার বৃহৎ এলএনজি ক্রেতা চীন ও ভারত এমনকি পাকিস্তানও এলএনজি আমদানি কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। 
বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩৮ শ’ মিলিয়ন ঘনফুট।  দুইটি এফএসআরইউ থেকে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ১,৬২০ মিলিয়ন ঘনফুটসহ মোট প্রায় ২,৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। 
চলতি মাসে সরকার স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ২৯ ডলার দরে এলএনজি কার্গো অনুমোদন করেছে। সেই হিসাবে প্রতিদিন এলএনজি সরবরাহে তিন কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হবে। 
 পেট্রোবাংলার চলতি বছরে পরিকল্পনায় মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল। এর মধ্যে নিয়মিত সরবরাহকারী কাতার এনার্জি ৪০টি, ওকিউ ১৬টি, কাতার এনার্জি ট্রেডিং ১২টি, ওকিউ ট্রেডিং এলএলসি চারটি এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং ১৪টি দেয়ার কথা। কিন্তু ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনে পাল্টে যায় সব হিসাব। যুদ্ধ শুরুর মাত্র চার দিনের মাথায় কাতার এনাজি ২ মার্চ ২০২৬ ফোর্স মেজার ঘোষণা করে এবং বাংলাদেশকে ২০২৬ সালে ৪০টি কার্গোর স্থলে ২০টি কার্গো দিতে পারবে বলে জানায়। যদিও এখন তাও অনিশ্চিত। 
এর বাইরে ওমানের ওকিউ ট্রেডিং ২০২৬ সালে ১৬টি কার্গো দেয়ার কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি ৫ মার্চ ফোর্স মেজার ঘোষণা করলে কার্গো পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং চলতি বছরে ১৪টি কার্গো দেয়ার কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি গত ৬ মার্চ ফোর্স মেজার ঘোষণা করে সরবরাহ বন্ধ করে। বাংলাদেশকে তারা জানিয়েছিল, রাস লাফান থেকে এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা সরবরাহ করতে পারবে না।
এর মধ্যে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট টার্মিনালে রহস্যময় অগ্নিদুর্ঘটনায় সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি টেন্ডারে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। 
নতুন সরবরাহকারীর খোঁজে পেট্রোবাংলা
এ দিকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে নতুন সরবরাহকারীর খোঁজ করছে পেট্রোবাংলা। আগ্রহী সরবরাহকারীদের নিকট থেকে আগ্রহপত্র আহ্বান করেছে তালিকাভুক্তির জন্য। আগস্টের শেষ দিকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে পেট্রবাংলা। বর্তমানে ২৯টি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার তালিকাভুক্ত রয়েছে বলেও সূত্র জানায়।
দীর্ঘমেয়াদি নতুন উৎস জরুরি
মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি নতুন এলএনজি সরবরাহ চুক্তি জরুরি বলছেন জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা। 
বাংলাদেশ বর্তমানে কাতার ও ওমানের ওপর দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি সরবরাহের জন্য অনেকটাই নির্ভরশীল। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন উৎস এবং প্রাইসিং বেঞ্চমার্কে বৈচিত্র্য আনার কথা বলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গানভরের সাথে বাংলাদেশ সরকারের এলএনজি সরবরাহ চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে সূত্র বলছে- গানভরের সাথে অনুমোদিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ২০২৬-২৮ সালের কিছু কার্গো জেকেএম-লিংক এবং পরবর্তী ২০২৯-৩৮ সময়ের কার্গো হেনরি হাব-লিংকড করার কাঠামো রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ইউএস এলএনজি শুধু নতুন সাপ্লাইয়ার হিসেবে নয়, নতুন প্রাইসিং বেঞ্চমার্ক হিসেবেও আমাদের সামনে আসছে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সরু প্রণালীর ঝুঁকি না থাকলেও দীর্ঘ সমুদ্র পথের কারণে বাড়তি জাহাজ ভাড়ার ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হবে বলে সূত্র জানায়।   
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৃহৎ এলএনজি উৎপাদক দেশ। তবে সেখানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাথে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে চুক্তি করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার এলএনজির জন্য জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বড় ক্রেতাদের সাথে প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে শুধু স্পট কার্গো নয়, দেশটির সাথে আগাম স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দিকে যেতে হতে পারে।
এর বাইরে ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া ও মালয়েশিয়ার বাজারেও নজর দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। 
সূত্র বলছে- যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও অস্ট্রেলিয়া এই তিনটি দেশ মিলে ২০২৫ সালে বিশ্বের এলএনজি রফতানির প্রায় ৬৩ শতাংশ সরবরাহ করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রফতানিকারক এবং ২০২৫ সালে দেশটি বৈশ্বিক এলএনজি রফতানির প্রায় ২৬ শতাংশ সরবরাহ করেছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও দেশটির এলএনজি রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি মাসে সরবরাহ নিশ্চিত করা গেছে
পেট্রোবাংলার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দুইটি এফএসআরইউ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে। চলতি মাসে আরো চারটি এলএনজি কার্গো আসছে জানিয়ে সূত্র জানায়, চলতি মাসের পুরো সময়ই এভাবে চলবে। তবে আগামী অক্টোবর মাসের কার্গো শিডিউল এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও সূত্র জানায়। মহেশখালীর কুতুবজোমে তৃতীয় এফএসআরই স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে বলেও সূত্র জানায়। 
গবেষকরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘœ ঘটার মতো পরিস্থিতিতে এলএনজির বিকল্প হিসেবে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা যেতে পারে তা বিবেচনার পাশাপাশি, বাংলাদেশের উচিত এলএনজি সংগ্রহের উৎস, এর মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি এবং পরিবহন ব্যবস্থাতেও বৈচিত্র্য আনা।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের- চুয়েট পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: মোস্তাফিজুল করিম নয়া দিগন্তকে জানান, সরকারের নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা এলএনজি আমদানি ও বাজারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; আমদানিকারকদের ওপর কার্যকর নজরদারি এবং যথাযথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এ খাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি না হয়। বৈশ্বিক বাস্তবতায় জীবাশ্ম জ্বালানিকে রাতারাতি সম্পূর্ণভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণের দিকে যেতে হবে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জীবাশ্ম জ্বালানি ও অন্যান্য উৎসের সমন্বয় থাকবে। এলএনজি টার্মিনাল স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আমদানিনির্ভরতার পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে সুষ্ঠু কূপ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে। আমাদের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জ্বালানি উৎসগুলোর একটি, সমুদ্রাঞ্চলের সম্পদ, এখনো আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি। একই সাথে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি অনুসন্ধানকেন্দ্র ও গবেষণাগার গড়ে তুললে দক্ষ দেশীয় জনবল তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে সমুদ্রের জ্বালানি সম্পদের টেকসই অনুসন্ধান ও ব্যবস্থাপনায় আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়বে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের সমুদ্র সীমায় ভূকৌশলগত ভারসাম্যটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মহেশখালীতে বর্তমানে দুইটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট ও অপরটি সামিটের হলেও তাও অনেকটাই একই ব্লকের। কাজেই সেখানে চীনের একটি এলএনজি টার্মিনালের উদ্যোগ ভূকৌশলগত ভারসাম্যেরই একটি পদক্ষেপ হতে পারে বলে আমি মনে করি।