এভিয়েশন সিকিউরিটি নিয়ে ৪৯৪টি প্রশ্নের মুখে পড়বে বেবিচক

 মনির হোসেন

* ঢাকা ও চট্টগ্রামে আইকাও দলের অডিট চলবে ২৬ অক্টোবর থেকে 
* ২০১৮ সালের চেয়ে এবার গ্রেডিং পয়েন্ট বেশি পাওয়ার আশাবাদ

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত কতটা নিরাপদ এবং কিভাবেই বা তা পরিচালিত হচ্ছে, তারই উত্তর খুঁজতে দেশে আসছে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সিকিউরিটি অর্গানাইজেশনের (আইকাও) উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। এ সময়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দফতর, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা নভোএয়ার, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী এয়ার অ্যাস্ট্রার উড়োজাহাজ ও তাদের সিকিউরিটি কার্যক্রম অডিটের তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়াও বিমানে ক্যাটারিং ও কার্গো বিভাগের নিরাপত্তার বিষয়গুলো আইকাও অডিটের তালিকায় সংযুক্ত রয়েছে। এসব সংস্থার সার্বিক নিরাপত্তাকার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন (আইকাও) মোট ৪৯৪টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে। 
এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছে, ক্রিটিক্যাল এলিমেন্টে মোট আটটি ধাপে এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলেই মিলে যাবে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সিকিউরিটির ছাড়পত্রের সনদ। এ নিয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পক্ষ থেকে চলছে সব সেক্টরে সরেজমিন অনুসন্ধান, পরিদর্শন ও নানা বিশ্লেষণ।  
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অডিট কার্যক্রম পরিচালিত হবে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বেসামিরক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দফতর, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অডিট কার্যক্রম চালাবে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আইকাও  প্রতিনিধিদলের সব প্রশ্নেরই উত্তর দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা এবার বিগত সময়ের চেয়েও বাংলাদেশে এভিয়েশন সিকিউরিটিতে যে অগ্রগতি হয়েছে সে কারণে তারা আরো ভালো গ্রেডিং পাওয়ারও আশা করছে।  
গতকাল রোববার দুপুরের পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো: আসিফ ইকবালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সিকিউরিটি অর্গানাইজেশনের সদস্যরা দেশে আসার পর সিভিল এভিয়েশন সদর দফতর, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অডিট করবে। তিনি বলেন, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আটটি ক্রিটিক্যাল এলিমেন্টে মোট ৪৯৪টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে। সবগুলো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলেই আমরা পাস করব। না দিতে পারলে ফেল করব। প্রতি বছর ন্যাশনাল এভিয়েশন সিকিউরিটি নিয়ে দু’বার অভ্যন্তরীণভাবে অডিট করার নিয়ম রয়েছে।  দু’বার করতে না পারলে অর্ধেক মার্ক। আর না করতে পারলে ফেল। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে সর্বশেষ আইকাও এর অডিট হয়েছিল। ওই সময় এভিয়েশন সিকিউরিটি নিয়ে সিভিল এভিয়েশনের গ্রেডিং পয়েন্ট ছিল সম্ভবত ৬৮.৫৩। আমাদের এবার টার্গেট রয়েছে ৭৫ পয়েন্টেরও বেশি। 
যে আটটি ক্রিটিক্যাল এলিমেন্টের ওপর আইকাওয়ের অডিট পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে সেগুলো হচ্ছে, প্রাইমারি এভিয়েশন সিকিউরিটি লেজিসলেশন, এভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রামস অ্যান্ড রেগুলেশনস, স্টেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটি ফর এভিয়েশন সিকিউরিটি অ্যান্ড ইটস রেসপনসিবিলিটিস, পারসোনাল কোয়ালিফিকেশন্স অ্যান্ড ট্রেইনিং, প্রভিশন অব টেকনিক্যাল গাইডেন্স, টুলস অ্যান্ড সিকিউরিটি-ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন, সার্টিফিকেশন অ্যান্ড অ্যাপ্রোভাল অবলিগেশনস, কোয়ালিটি কন্ট্রোল অবলিগেশনস এবং রেজুলিউশন অব সিকিউরিটি কনসার্ন। এসব মিলিয়ে মোট ৪৯৪টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে তারা। 
সিভিল এভিয়েশনের সদস্য (নিরাপত্তা) আসিফ ইকবাল অপর এক প্রশ্নের উত্তরে নয়া দিগন্তকে বলেন, আইকাও অডিট দলের সদস্যরা যে ৪৯৪টি প্রশ্ন করবে তার মধ্যে সিকিউরিটি ডিউটি রেজিস্ট্রারে মেইনটেন্ড হয় ঠিক মতো কি না সেটিও আছে। এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ছাড়াও ইমপোর্ট-এক্সেেপার্ট এলাকায় আমরা কিভাবে সিকিউরিটি সার্ভিস দিচ্ছি সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজবে তারা। তিনি বলেন, সিকিউরিটির মধ্যে উড়োজাহাজের ভেতরে লোকজনকে জিম্মি করা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই থাকবে। সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলেই আমরা পাস করব। ইতোমধ্যে আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি ২০১৮ সালের চেয়েও এবার এভিয়েশন সিকিউরিটি নিয়ে আমরা আরো ভালো করতে পারব বলে মন্তব্য করেন তিনি। এভিয়েশন সিকিউরিটি নিয়ে কী ধরনের বাজেট রয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা অন্য ডিপার্টমেন্ট দেখে থাকে। তিনি বলেন, আমাদের জনবলের সঙ্কট আছে। তবে গত বছর দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সিকিউরিটি নিশ্চিত করার জন্য ১৯৭ জন জনবল দেয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ আশিয়ান সিটি  গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কঠোর সিকিউরিটি অতিক্রম করে দিল্লিগামী বিমানের একটি ফ্লাইটে উঠে যান। এ নিয়ে পরবর্তীতে জানাজানি হলে পুরো বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে হইচই শুরু হয়। পরে তার ওই গুলিভর্তি ব্যাগটি দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটক করেন। অবশ্য এ বিষয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ নয়া দিগন্তকে বলেছিলেন, আমরা সূত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আশিয়ান সিটির মালিক দিল্লি থেকে দেশে ফেরার সময় ওই বিমানবন্দরে গুলিভর্তি ব্যাগসহ আটক হয়েছিলেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যাগ স্ক্যানিং এ দিলে তখন গুলির অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল। 
এসব বিষয়ে বিমানবন্দর সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি সদস্যদের দুর্বলতার বিষয়টি জানতে চাইলে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গতকাল বিকেলে নয়া দিগন্তকে বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ  সজীব ভুঁইয়ার ব্যাগে থাকা অস্ত্রের অস্তিত্ব বিমানবন্দরের স্ক্যানিং মেশিনেই ধরা পড়েছিল। পরে সেই ব্যাগ অফলোড করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি আশিয়ান সিটির মালিক নজরুল ইসলামের গুলিভর্তি ব্যাগ বিমানবন্দরের স্ক্যানিং মেশিনে ধরা পড়ে নাই। বিমানবন্দরের স্ক্যানিং মেশিন দিয়েও আর্মস নিয়ে যাত্রীদের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, আইকাও অডিটে এসব বিষয় না-ও আসতে পারে। আবার আসতেও পারে। এক প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সব এয়ারলাইন্সের বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলোর সিকিউরিটি সম্পর্কিত ইন্টারনাল সার্ভে কাজ শেষ করেছি। প্রয়োজন অনুযায়ী সব ডকুমেন্টস সংগ্রহ ও আপডেটের কাজ করা হচ্ছে।