
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোররাতের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে গতকাল দিনভর চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে। ব্যাহত হয় যান চলাচল, সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
গতকাল ভোর ৪টার দিকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে পল্টন, মালিবাগ, মৌচাক, কাকরাইল, নিউ মার্কেট, মতিঝিলসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নগরবাসী। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সকাল থেকেই মাঠে নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম। মুগদা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, গোড়ান, মানিকনগর, তালতলা, মতিঝিল, আরামবাগ, গুলিস্তান, পল্টন কালভার্ট রোড, মালিবাগ, মৌচাক ও কাকরাইলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়ক পানিতে তলিয়ে আছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা এতটাই বেশি যে রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চাকা প্রায় ডুবে যাচ্ছে। ফুটপাথ দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। জলাবদ্ধতায় অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে এবং চালকদের তা ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
রিকশা ও ভ্যানচালকরা বাড়তি ভাড়া হাঁকলেও পানি বেশি থাকায় অনেক রাস্তায় তারাও চলাচল করতে পারেনি। যানবাহনের সংখ্যাও তুলনামূলক কম দেখা গেছে। অনেক জায়গায় দোকানপাটে পানি ঢুকে মালামাল নষ্টের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় সরিয়ে রেখেছেন।
জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকেই সড়কে দায়িত্ব পালন করেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় তাদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা সকালে জানান, বৃষ্টিপাতের পর সকাল থেকেই মালিবাগ, মৌচাক ও কাকরাইল, মতিঝিল এলাকা হয়ে খিলগাঁও এলাকার রাস্তায় সম্পূর্ণ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে রাস্তায় নেমে কষ্ট করে যাচ্ছি; কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারছি না। যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে রয়েছে। এসব রাস্তার এক লেন দিয়েও যান চলাচল করানো যাচ্ছে না।
ডিএসসিসির মুখপাত্র রাসেল রহমান বলেন, রোববার ভোর ৪টা থেকে মুষলধারে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের ফলে ডিএসসিসির আওতাধীন কিছু নিম্নাঞ্চল ও ঢালু সড়কে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসীর এ সাময়িক ভোগান্তি দ্রুত নিরসনে ভোর থেকেই ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। তারা ড্রেনেজ লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করেছেন। অতি দ্রুত পানি অপসারণ করে যান চলাচল ও পথচারীদের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, সকাল থেকেই পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনে মাঠে ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকায় মাত্র ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রায় সব বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। বেশি হয়েছে নারায়ণগঞ্জে ৮২ মিমি। এ সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত এমন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।







