শিশু অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে : শিবির সভাপতি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
কুমিল্লায় শিশু অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে মন্তব্য করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আমরা এমন এক অনিরাপদ সমাজে বসবাস করছি যেখানে গড়ে প্রতিদিন ৯ জন করে মানুষ মারা যাচ্ছে। এটা স্বাভাবিক কোনো মৃত্যু নয়। গত ছয় মাসে ১৭০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। শিশু অপ্রতিমের মতো ঘটনা কী দু-একটা বাংলাদেশে! গত ছয় মাসে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ। তার মধ্যে এখনো দুই হাজার শিশুর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এটা সরকারি সংস্থার হিসাব। শুধুমাত্র যেগুলো পত্রপত্রিকায় আসছে তার হিসাব। যেগুলো আসছে না সেগুলোর কথা তো আমরা কেউ জানতেও পারছি না। আসলে এমন ঘটনা অনেক অনেক বেশি। যার সন্তান হারায়, যার ভাই হারায় সে-ই বোঝে শুধু হারানোর বেদনা।
গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। চট্টগ্রাম মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ বরকত আলী, নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, শিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন বক্তব্য রাখেন।
সরকারের উদ্দেশে শিবির সভাপতি বলেন, জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে কী অবস্থা হয় জুলাইয়ে তা দেখিয়ে দিয়েছে। প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সংস্কারগুলো করছেন না। গণভোটের আলোকে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারগুলো আপনারা করছেন না। কেন করছেন না তার কোনো জবাবও আপনারা দেন না। শুধু বলেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। কালক্ষেপণ করে প্রতিটা দফতর, উপদফতরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছেন। তরুণ প্রজন্ম এগুলো বোঝে না এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। মনে রাখবেন, জনগণ যেমন ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাতে পারে, তেমনি আবার টেনে ক্ষমতা থেকে নামাতেও পারে।
শিবির সভাপতি বলেন, অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তারই এলাকার কিছু বন্ধু কিংবা তার চেয়ে বয়সে বড় কিছু মানুষ। একটা আইফোনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে আইফোনটা নেয়ার জন্য তাকে আঘাত করা হয়েছে। আঘাতটা সিভিয়ার পর্যায়ে হয়েছে, যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। জানি না তার বাবা-মা কিভাবে বেঁচে থাকবে।

Advertisement